সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

এডগার অ্যালান পো সিরিজ ১ l Edgar Allan Poe Series

এডগার অ্যালান পো এর "দ্য মার্ডারস ইন দ্য রু মর্গ"- “The Murders in the Rue Morgue” গোয়েন্দা গল্পের প্রথম আত্মপ্রকাশ হল এবং যাত্রা শুরু হল গোয়েন্দা কাহিনীর।  এডগার অ্যালান পো: Image Courtesy : pixabay  ১৮৪১ সালের প্রথম দিক তখন, এডগার অ্যালান পো (Edgar Allan Poe) ফিলাডেলফিয়ার এক জনপ্রিয় প্রকাশনা গ্রাহামস ম্যাগাজিনের (Graham’s Magazine) সম্পাদক হিসাবে কাজ করছেন, পত্রিকায় একটি গল্প জমা দিয়েছিলেন, বহু খেটে গল্পটি লিখেছেন পো, যার নাম ছিল "মার্ডার্স ইন দ্য রু ট্রায়ানন " - “Murders in the Rue Trianon.” প্যারিসের রাস্তার পাশে একটি বাড়িতে একটি ভয়ঙ্কর জোড়া-খুনের ঘটনা ঘটেছে। বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী নিশ্চিত করেছেন যে বাড়ি থেকে একজনের কণ্ঠস্বর শোনা গেছে, তবে একজন বক্তা ঠিক কী ভাষা ব্যবহার করছেন সে বিষয়ে কেউ একমত হতে পারছে না। ভাষার ধাঁধায় গুলিয়ে যাচ্ছে গোটা ঘটনা। বেশ কিছু ক্লুও পাওয়া গেছে, কিন্তু সেগুলো প্রতিটি পরবর্তীটির চেয়ে আরও বিভ্রান্তিকর। প্রতিবেশীরা আতঙ্কিত। পুলিশ বিভ্রান্ত। কিন্তু সি. অগাস্ট ডুপিন (C. Auguste Dupin) একজন শেভালিয়ার (chevalier) এব
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

কবিতার হারানো খাতা/ Bengali Poetry

 নিঝুম রাত, নিঘুম রাত, তোমার আমার একলা হয়ে যাওয়ার রাত। এই অনন্ত বিরহ শুধু তোমার - আমার।  জানালা দিয়ে দু ' হাত বাড়িয়ে স্পর্শ করতে চাই বৃষ্টির জলের মতো তোমার চোখের জলের অভিমান। পূর্বজন্মের স্মৃতি খুঁজে নিয়েছি আমি। চলে যেতে চাই বাস্তবের অলৌকিক আলো- ছায়া মায়াজাল কেটে । পুরনো হয়ে যাওয়া ভিটের পাশে কুয়াশা মাখা  স্মৃতিপথে হেঁটে চলে যেতে চাই আমি।

সুইজারল্যান্ডের আত্মহত্যার সহযোগী অনুমোদিত ডিভাইস /Switzerland Approves a Device for Assisted Suicide

  মৃত্যু সহায়তা কারী যন্ত্র। যন্ত্র তো মানুষকে জীবন দেয়। প্রাণ ও কেড়ে নেয় তা? সারকোফেগাস: Image Courtesy: wikimedia common একটি ক্যাপসুল, সাই-ফাই ফিল্ম থেকে বেরিয়ে  এসেছে, সবাই অবাক হয়ে দেখছে কিন্তু তা সুইজারল্যান্ডে রীতিমত বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।  বিতর্কের বিষয় স্বয়ং হাইবারনেশন সেলের মতো দেখতে এই যন্ত্র, যা কিছুটা স্পেস শিপের মতো দেখতে, তা আসলে মৃত্যুতে সহায়তা বা আত্মহত্যায় সহায়তা ( Assisted Suicide/ Assisted Death) করার একটি যন্ত্র।  দেশটি সম্প্রতি তার সহায়ক আত্মহত্যা আইনের পরিধির (Assisted Suicide Laws) অধীনে "কফিনের মতো ক্যাপসুল" - “Coffin-like Capsule” কে আইনি ছাড়পত্র দিয়েছে। এই যন্ত্র- মৃত্যুর প্রক্রিয়া কিছুটা এই প্রকার : সারকোফেগাসের ( sarcophagus ) সংক্ষিপ্ত "সারকো"- “sarco,” নামে ক্যাপসুলটি "দ্রুত এবং ব্যথাহীন" বা “quick and painless”  মৃত্যু নিশ্চিত করবে।  সারকো হাইপোক্সিয়ার (hypoxia) মাধ্যমে মৃত্যুকে প্ররোচিত করবে এই যন্ত্র; জীবনের শেষ দিনটিকে সুনিশ্চিত করার জন্য ক্যাপসুলটি নাইট্রোজেন  পূর্ণ করা হবে এবং অক্সিজেন সরবরাহ ব

টুকরো লেখা এবং অন্যান্য / Bengali Prose

আমরা যে চলে যাব একদিন, কোথায় যেন চলে যেতে হবে সবাইকে একদিন! আমরা  নিশ্চিতভাবে জানি যে একদিন মরে যাব আমরা তাও কি করে জানি বুঝে নি, কি করে জানি ধরতে পেরে যাই কি সব, কি সব জিনিস, কি কি সব স্মৃতি যেন , কীভাবে যেন  চিরটাকাল  থাকবে, থেকে যাবে, কি করে বুঝে যাই এমনটা?  যখন  পৃথিবীর কাজ ফুরোলে ছেড়ে চলে যায়, তার  শতাব্দীর ভাগ করা জীবন এবং ভালবাসা ভরা মানুষগুলোকে মাটি আর আকাশ আর বাতাসের কাছে গুছিয়ে রেখে; এক আলোকিত ইথারে যেন বিদায় জানায়, ফিসফিসিয়ে কি বলে ? কোথায় যাচ্ছ ?  আমাদের বিশ্বাস যাই হোক না কেন, মনের এই অনুভূতিপ্রবণ দোলাচলে যখন বস্তুগত পূর্বাবস্থার মুহূর্তরা কাছে চলে আসতে থাকে- moment of material যাকে বলতে থাকি আমরা,  মানে তখন আরও কিছুক্ষন সময় মুঠোয় আছে যখন , ঠিক যে ক্ষণে মানবজীবন তার ভস্মজীবনের দোরের কাছে এসে দাঁড়ায়, তখন আমরা - আমরা কিছুক্ষনের, কিছুসময়ের এবং  পদার্থ দিয়ে তৈরী  প্রাণী আমরা, আমরা creature of moment and matters কিংবা anti matters - আমাদের ভিতরে চিন্তা এবং অনুভূতির মহাবিশ্বের মতো দুর্দান্ত কিছু কীভাবে যে শূন্যতায় বিলুপ্ত হতে পারে তা বোঝা যায় না। কিভাবে যে একটা n

চা- বাণিজ্য নীতি:কিভাবে চা ছড়িয়ে পড়ল ভারতবর্ষে/ Tea-Trade Policy: How Britishers created Tea market in India

  ঠিক কিভাবে ব্রিটিশরা ভারতবর্ষে চায়ের প্রসার এবং প্রচার করেছিল? কি কি বাণিজ্যিক কৌশল ব্যবহার করেছিল তারা?  ব্রিটিশরা ভারতীয় রেলপথকে ব্যবহার করেছিল চায়ের বাণিজ্যিক প্রসার এবং প্রচারের জন্য, বিনামূল্যে দেওয়া হ'ত চা খাবার কাপ, মহিলারাই ছিলেন প্রধানতম লক্ষ্য উপভোক্তা বা টার্গেট কাস্টমার  (target customer) - টেস্ট ওফ টাইম এর ‘Taste of Time’ এর লেখক মোহনা কাঞ্জিলাল লিখেছেন যে ব্রিটিশদের আসার আগে ভারতে চা  পান করা হতো না সেভাবে।  চীনের সাথে আফিম যুদ্ধ বা Opium Wars এর পরে আজ,  ভারত চীনের পরে বিশ্বের বৃহত্তম চা উৎপাদনকারী দেশ। এবং এর জন্য  ব্রিটিশদের এক গুরুত্ত্বপূর্ন ভূমিকা ছিল। ব্রিটিশরা শুধু আসাম এবং দার্জিলিংয়ে চা বাগান চালু করেনি বরং ভারতের উত্তর -পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণে অন্যান্য অঞ্চলে চা উৎপাদন শুরু করেছিল। ব্রিটিশদের মধ্যে ভারতীয় চায়ের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এই শিল্পের ক্রমাগত সম্প্রসারণকে উৎসাহিত করেছিল।চা গাছ লাগানো সংখ্যায় বাড়ছিল।  এই প্রসঙ্গে অরূপ কে চ্যাটার্জি লিখছেন যে ১৮৮৮ সালের মধ্যে আসাম, দার্জিলিং এবং অন্যান্য পার্বত্য অঞ্চল থেকে ব্রিটেনে চা রপ্তানি চীনকে ছাড়িয

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জাহাজ ভর্তি নতুন বছরের উপহার/ East India Company's Ship full of New Year’s Gift to India

  এক জাহাজ ভর্তি নতুন বছরের উপহার এসেছিল মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের কাছে  ১৬১৩ সালে।   আবু-আল-হাসানের ( ১৫৮৯-১৬৩০) চিত্রিত মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ছবি: Image Courtesy : Wikimedia Commons কোনো উপহার কিভাবে আপনার কাছে আসে ? রঙিন কাগজে মুড়ে তার উপর সুন্দর  রিবন জড়িয়ে সাধারণত আমরা উপহার নিতে অভ্যস্ত, তাই তো ? আচ্ছা যদি এমন হয়, এক জাহাজ ভর্তি রং-বেরঙের উপহার আপনার কাছে এল? ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এমনই একটি জাহাজ যা ১৬১৩ সালে ইংল্যান্ড থেকে সুরাটের জন্য যাত্রা করে। হেক্টর, হোপ, বান্টাম এবং সলোমনের ঘুরে ভারতে এসে পৌঁছেছিল সেই জাহাজ।  এই বিরাট নৌবহরটি  বহন করে এনেছিল ভারতবর্ষের তৎকালীন মুঘল সম্রাটের  জন্য বাছাই করা বহুমূল্য উপহার সামগ্রী; ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্যই এই উদ্যোগ অবশ্য।     মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের জন্য নির্বাচিত উপহারগুলির মধ্যে ছিল রৌপ্যমন্ডিত একটি স্কারলেট ক্লোক (scarlet cloak )  স্পিরিট ভর্তি মখমলে জড়ানো চেস্ট অফ বটল  ( chest of bottles ) এবং এসেছিল প্রচুর ছবি - ছবিগুলি ছিল কিং জেমস, তাঁর স্ত্রী কুইন অ্যান, টেমরলেন -স্বয়ং সম্রাট, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর স্যার টমাস

সিলভিয়া প্লাথ :এক অন্ধকার নিয়ে বেঁচে থাকার নাম / Sylvia Plath on Living with the Darkness

x এক গভীরতর অন্ধকার নিয়ে বেঁচে থাকা আর হালকা আলোর সুড়ঙ্গে শিল্পের আবছায়া দেখতে থাকা, যদি মাথার মধ্যে সেই বারবার করে উত্তেজিত করে চলা অংশগুলিকে বন্ধ করতে পারি এবং চলে যেতে পারি সেই সময়কালকে পেরিয়ে, সাহসের সঙ্গে পেরিয়ে যেতে পারি সেই সময়কে, তখন মুখোমুখি হতে হবে এক গভীর দর্শনের। সিলভিয়া প্লাথ : Image Courtesy : Wikimedia Common  বাইশ বছর বয়সী সিলভিয়া প্লাথ (২৭ অক্টোবর, ১৯৩২ - ফেব্রুয়ারী ১১, ১৯৬৩) তার মাকে  লিখছেন, এক শীতের ওমে মোড়া জানুয়ারি মাস, লিখছেন সিলভিয়া, তারা উভয়েই এক অন্ধকারের মধ্যে বিরাজ করছেন, আত্মার শুদ্ধতার এক অপরিসীম অন্ধকার। অন্ধকার আরও তীক্ষ্ণতর হচ্ছে। প্রবেশ করছেন তারা সেই অন্ধকারে। তার মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছেন তারা দুজনেই। যেন পৃথিবীর জন্ম হয়নি তখনও, যেন তার আগের এক সূক্ষ্ম আলোর সন্ধান করছেন তারা। যেন সূক্ষ্ম আলোর রেখার থেকে যাবার কথা ছিল। বিজ্ঞান কেবলমাত্র সেই মাধ্যম,  যার টুল বা সরঞ্জামগুলির একে অপরের সাথে একত্রিত হতে  শুরু করেছিল আমাদের ইতিহাসের প্রেক্ষাপট তৈরী করবার জন্য।  যার সাহায্যে আমরা কী, আমরা কে, বা আমরা কিভাবে এসেছি পৃথিবীতে, কি ই বা আমরা আর ক

সাহিত্যিক এমিলি ডিকিনসনের চিঠিপত্র : একান্ত ভালোবাসা - সুসান গিলবার্ট-প্রথম পর্ব / Emily Dickinson’s Love Letters to Susan Gilbert

  এমিলির প্রেম, তাঁর কবিতার মতোই পবিত্র  সুন্দর। তাঁর একমাত্র প্রেম, তার কবিতার মতোই বহমান।  " আমাদের হৃদয়ের মধ্যে যে  গির্জা আছে, আজ সকালে আমার সঙ্গে সেখানে এস, যেখানে ঘণ্টা সবসময় বাজতে থাকে, এবং সেখানে একজনই প্রচারক থাকেন - যার নাম প্রেম - তিনি আমাদের জন্য সুপারিশ করবেন!" এমিলি তার ভালোবাসাকে খুঁজে পেয়েছেন , তাই তো তার জন্য তৈরী হয়েছে হাজার হাজার কবিতা।  এমিলি ডিকিনসন  ( ডিসেম্বর ১০,   ১৮৩০ -  মে ১৫ ১৮৮৬ )  দেখা পেয়েছেন তার পরম আকাঙ্খিত প্রাণের মানুষের। কুড়ি বছরে পা দিতে আর মাত্র চার মাস  বাকি। এই কি তবে জন্মদিনের শ্রেষ্ঠ উপহার ? জীবনের  থেকে শ্রেষ্ঠ উপহার ?    তার কুড়ি বছরের  জন্মদিনের চার মাস আগে, এমিলি  সেই ব্যক্তির সাক্ষাৎ পাবেন, যিনি হয়ে উঠবেন তাঁর  প্রথম প্রেম, তাঁর  মতে তাঁর জীবনের সর্বকালের সেরা নারী - সুসান গিলবার্ট- এক  অনাথ  প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গণিতবিদ, পুরো নয় দিনের  ছোট, কবির পুরো জীবন জুড়ে -পুরো হৃদয় জুড়ে আবাস; সুসান তাঁর জীবনীশক্তির আভাস, তাঁর পরামর্শদাতা, তাঁর লেখার  প্রাথমিক পাঠক এবং সম্পাদক, তাঁর জীবনকালের প্রবল সংযুক্তি, তাঁর মতে -বিশ্বের একমাত্র নারী। 

বাণিজ্য নগরী মুম্বাই, সুয়েজ খাল এবং দেহ -ব্যবসা / Suez Canal, transformation of Mumbai and its Sex Trade

বাণিজ্য বিস্তার হচ্ছে, নাগরিক সভ্যতা ছড়িয়ে পড়ছে বন্দর-শহর তথা ভারতবর্ষের এই দামি বাণিজ্য নগরীটিতে। এর সঙ্গে সমান্তরালে পতিতালয়গুলি তৈরী হতে শুরু করে,পূর্ব ইউরোপীয় মহিলারাই সামলাতেন তা। সুয়েজ খাল এবং বোম্বাই নগরী , কি ভাবে সম্পর্কযুক্ত ?  ১৮৬৯  সালের ২৭ নভেম্বর,  দুর্ঘটনাটি ঘটে  মিশরে সুয়েজ খাল উদ্বোধনের ঠিক দশ দিন পরে,  মালপত্র  বোঝাই হয়ে  ভারতে আসছিল যে  জাহাজটি সেটি  লোহিত সাগরে ডুবে যায়।   শোক প্রকাশ  করেছিল  বোম্বাই গার্ডিয়ান । সাথে জানিয়েছিল যে, জাহাজটি আসছিল বোর্দো  থেকে, জাহাজের নাম  নোয়েল। সংবাদপত্রে উল্লিখিত, "বার্কটি সুয়েজ খালের মধ্যে  দিয়ে আসছিল ...গন্তব্য ছিল বোম্বাই, আর সঙ্গে নিয়ে আসছিল প্রচুর ওয়াইন" ।   অবশ্য, তাতে অন্যান্য জাহাজের  যাত্রাপথে কোনো  বাধার সৃষ্টি হয়নি। হয়নি কোনো অসুবিধাও। এই সুয়েজ খালের অল্প একটু ভূমিকা দেওয়া প্রয়োজন।  সুয়েজ খাল  ভূমধ্যসাগরকে লোহিত সাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে; সুয়েজ খালের উন্মুক্তকরণ এক  বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটিয়েছিল,  বিপ্লব ঘটিয়েছিল ইউরোপ এবং ভারতবর্ষের মধ্যেকার  বাণিজ্যিক সম্পর্কে -  কমিয়েছিল ইংল্যান্ড থেকে উপমহাদেশে ভ্র