সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

‘সাহিত্যের অগ্রগতি আসলে একটি জাতির আরোহণ’ - মুন্সী প্রেমচাঁদ- শেষ পর্ব‘/ The ascent of literature is the ascent of a nation’- Munsi Premchand


n
মুন্সী প্রেমচাঁদ: image courtesy: wekipedia.org 

এই গল্পগুলি আমাদের ধর্মের প্রাণ। এই গল্পগুলি সরিয়ে নিলে, ধর্ম হোঁচট খাবে। ধর্মের প্রবক্তারা এই কারণেই  এই গল্পগুলিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তারা বুঝতে পেরেছিলেন  যে তাদের বার্তা কেবলমাত্র  হৃদয়ছোঁয়া গল্পের মাধ্যমেই মানুষের প্রাণের কাছে  পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হতে পারে। এই সাধকেরা ছিলেন মহান  মানুষ, তারা তাদের নিজেদের  সত্ত্বাকে সাধারণ মানুষের জীবনের সাথে মিলিয়ে দিতে পেরেছিলেন। এই সাধকেরা সাধারণ মানুষের সাথে নিজেদের জীবনের আর মতবাদের সঙ্গতি, সাদৃশ্য এবং সামঞ্জস্য রেখেছিলেন। কীভাবেই বা  তারা মানব-চরিত্রের বিভিন্ন দিককে  উপেক্ষা করতে পারেন!

প্রাচীন কাল থেকে, একজন  মানুষের নিকটতম সঙ্গী কিংবা প্রতিবেশী ছিল অন্য্ একজন মানুষই। আমরা আমাদের আত্মাকে কেবলমাত্র  তাদের সাথেই  একীভূত করতে পারি যাদের আনন্দ এবং বেদনা, হাসি এবং অশ্রু আমরা অনুভব করতে পারি। একজন শিক্ষার্থীর তার ছাত্রজীবনের সাথে যে সম্পর্ক বা একজন কৃষকের কৃষিকাজের প্রতি যে সম্বন্ধ অথবা  সখ্যতা রয়েছে তা নিশ্চয়ই অন্যের জীবনের বা কাজের জন্য তাদের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যাবে না। সাহিত্যের অঙ্গনে প্রবেশ করার পরে, এই বিচ্ছেদ সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়। যেন আমাদের মানব-বোধ, আমাদের মানব জগৎ, বিশাল-বিরাট- এবং বিস্তৃত হয়ে পুরো  বিশ্বের উপর দাবী ন্যস্ত করেছে । কেবল মানব জগতই নয়, গোটা বিশ্বজগতের প্রাণী এবং উদ্ভিদ জগতের উপরেও সার্বভৌমত্বের দাবি করেছে। 

সাহিত্য হ'ল সেই যাদুবিদ্যার যাদু-ছড়ি  যা সর্বজনীন আত্মার সমার্থক, সার্বিক অন্তরাত্মার এক ঝলক দেখি আমরা পৃথিবীর সব জায়গাতেই  - প্রাণীদের মধ্যে, গাছেদের মধ্যে, এমনকি পাথর এবং ছোট ছোট জলাশয়ের মধ্যেও।  আমরা প্রায়শই নিজের প্রতিচ্ছবি  অন্য মানুষের মধ্যে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পরি, আমরা তাদের বেদনা এবং আনন্দকে উপলব্ধি করতে পারি, উপলব্ধি করতে পারি  তাদের উল্লাস এবং হতাশাকে, প্রেরণা পাই তাদের  সদর্থক জীবন-বোধ দ্বারা। একজন সত্যিকার লেখকের অনুভূতি বহু -বিস্তৃত হয়। তিনি প্রত্যেক পার্থিব সত্ত্বার সঙ্গে একীভূত, ঐক্যবদ্ধ সর্বজনীন অন্তরাত্মার  সাথে, অর্জন করেছেন সঙ্গতি ও সাদৃশ্যপূর্ন ঐকতান; প্রত্যেক মানুষ  অনুভূতিগুলি তার অভিব্যক্তিতে প্রতিবিম্বিত হয়।মানুষের সমগ্র হৃদয়ের জগৎ ইন্দ্রিয়লব্ধ হতে হবে এমন  নয়। 

একজন সৃজনশীল লেখক প্রায়শই তার সময় দ্বারা প্রভাবিত হন। সারা দেশের অস্থিরতার সময়, যখন এক অসহিষ্ণুতার বাতাস বইতে থাকে দেশ জুড়ে, তিনিও  অবিচ্ছিন্ন থাকতে পারেন না। তার অন্তরাত্মা দেশের মানুষের দুর্দশায় কাঁদে। মানুষের দুর্দশা খুব গুরুত্বপূর্ণ তার কাছে।দুর্দশাগ্রস্ত,নিপীড়িত  মানুষেরা এবং লেখক উভয়ই তাদের গোত্র বা জাতির অন্তর্গত, তাদের দেশাত্মবোধের আবেদনও সর্বজনীনও। আঙ্কেল টম'স কেবিন দাস প্রথার গল্প, দাসত্বের মতো এক চরম মর্মান্তিক প্রথার কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। যদিও দাসপ্রথা কিংবা দাসত্ব বিলুপ্ত করা হয়েছে অনেক কাল আগেই, কিন্তু এই কাহিনীর আবেদন আজও একইরকম আছে।

 সত্যিকারের সাহিত্য কখনই পুরোনো হয়ে যায় না। সময়ের সাথে সাথে দর্শন এবং বিজ্ঞানের বিভিন্ন মতবাদ  পরিবর্তিত হতে থাকে, তবে সাহিত্য হৃদয়ের বড় কাছের উপাদান এবং মানুষের হৃদয় পরিবর্তন হয় না। 

আনন্দ এবং হতাশা, ক্রোধ এবং ঘৃণা, আশা এবং ভয়, আমাদের মধ্যে বর্তমান; জীবনের কাল থেকে কালান্তরে মানবহৃদয়ে তা একছত্র রাজত্ব করে চলেছে, সমস্ত মানব আবেগগুলো একছত্র অধিকার করে রয়েছে সময় থেকে সময়ান্তরে,  এবং অনন্তকাল পর্যন্ত তা করবে। রামায়ণের সময় অতিবাহিত হয়েছে, না মহাভারতের সময়ও আর নেই। এখনো  এই মহাকাব্যগুলি নতুনের মতো বোধ হয়। সাহিত্য আসলে একাই এক সত্য-ইতিহাস।

সাহিত্য যেভাবে সময় এবং স্থানকে জুড়ে দিতে পারে, তা ইতিহাস কোনো ভাবেই করতে পারে না। ইতিহাস শুধুমাত্র কিছু তারিখের সমাহার নয়, বা শুধুমাত্র রাজাদের যুদ্ধও নয়, ইতিহাস তার চেয়েও অনেক বেশি সত্য। প্রকৃত অর্থে ইতিহাস জীবনের খাঁজে খাঁজে থাকা বিচিত্র উপাদানগুলির অগ্রগতি। আর এখানে আসে সাহিত্যের ভূমিকা। সাহিত্যের চেয়ে আর কি কিছু সাধারণ মানুষের জীবনকে  আলোকিত করতে পারে? উদ্ভাসিত করতে পারে তাদের জীবনের প্রতিটা মুহূর্তকে? সাহিত্য আসলে সময় ও স্থানের প্রতিবিম্ব।

  সাহিত্যের হৃদয় বোঝা খুব দরকার। আমরা প্রায়শই সাহিত্যের হৃদয় না বুঝে তা সৃষ্টি করবার জন্য উৎসুক হই। তাড়াহুড়ো করি।  আমরা সম্ভবত মনে করি,  শক্তিশালী ভাষা এবং মশলাদার প্লটই যথেষ্ট সাহিত্য সৃষ্টি করতে।  অবশ্যই সাহিত্যে ভাষার দক্ষতার দরকার রয়েছে, ভাষার  ব্যবহার অবশ্যই জড়িত, তবে শুধুমাত্র ভাষায় নয়, আরও অনেক কিছু প্রয়োজন।  অসামান্য সাহিত্য ধ্বংস করে না, তা সৃষ্টি করে, অবিচল করে তা। এটি মানব চরিত্রের অন্ধকার দিকটিতে শুধুমাত্র আলো ফেলে না, চরিত্রের প্রসারণও  দেখায়; চরিত্রের ভিন্ন ধাপগুলিকে খুঁজতে থাকে। যে একটি বাড়িকে ধ্বংস করে সে কোনোভাবেই প্রকৌশলী নন, প্রকৌশলী শুধুমাত্র নির্মাণ করেন।

যে সাহিত্যিকেরা নিজেদের জীবনকে  সাহিত্য-সৃষ্টির অঙ্গনে সমর্পন করতে চায়, তাদের জীবনে লক্ষ্যের প্রতি থাকতে হবে অবিচল। প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি শৃঙ্খলাবদ্ধতার।  তারা নিজেদেরকে প্রস্তুত করছে এক দায়িত্বশীল পদের জন্য , যা হয়ত কোনো কোনো ক্ষেত্রে উচ্চপদে আসীন এক বিচারকদের দায়িত্ত্বের  চেয়েও বেশি!  ডিগ্রি এবং উচ্চশিক্ষা এ জাতীয় শৈলী এবং সাধনা অনুসরণের জন্য অপর্যাপ্ত। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য-সৃষ্টির জন্য মানসিক অনুশীলনের, তীব্র শৃঙ্খলাবোধের। প্রয়োজন   সৌন্দর্য্যের  মর্ম - গভীরতার।  একজন লেখককে আদর্শবাদী হতে হবে। সাহিত্যের অমর - স্রষ্টা এক সাধারণ জীবনযাপন করেন এবং বিলাসিতা পরিত্যাজ্য বলে বোধ করেন।  

সাহিত্যের অগ্রগতি পরিলক্ষিত না হলে এর কারণ আমাদেরই খুঁজে বের করা বাঞ্চনীয়। আর তা করতে হবে বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে । হতে পারে আমরা আমাদের সৃষ্টির জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিই নি! কয়েকটি ওষুধের সাথে পরিচিত হ'লেই কি আমাদের নিজেদের চিকিৎসক বলে দাবি করবার অধিকার জন্মায়? সাহিত্যের আরোহণ আসলে একটি জাতির আরোহণ, আমরা সর্বশক্তিমানের কাছে সর্বান্তঃকরণে প্রার্থনা করব যে আমাদের মধ্যে সত্যের উদয় হোক, উদয় হোক সত্য-সুন্দরের, উদয় হোক সত্য-তপস্যার, উদয় হোক সত্য-আত্মজ্ঞানের  এবং উদয় হোক সাহিত্যের সত্য নির্মানের। 

সাহিত্যের স্রষ্টাদের কাঁধে এক গুরুত্ত্বপূর্ন  দায়িত্ব রয়েছে, রয়েছে এক বিশাল বাধ্যবাধকতাও। যে মুহুর্তে একজন সাহিত্যিক  কলম তুলে নিয়েছেন, সেই মুহূর্ত থেকেই শুরু হয়ে যায় এই মহৎ দায়িত্বটি।

জীবনে সাহিত্যের প্রাসঙ্গিকতা কখনও কখনও প্রশ্নবিদ্ধ হয় বৈকি । বলা হয়ে থাকে যে যারা প্রকৃতিগতভাবে পুণ্যবান বা ধার্মিক  তারা যা-ই পড়েন   না কেন সারাজীবন পুণ্যার্জন করতেই থাকবেন। এবং যারা অধর্মে  পরিপূর্ণ তারা যতই পড়াশোনা করুক না কেন, অধার্মিকই থাকবে। এই বিবৃতি  খুব সামান্য একটা সত্য ধারণ করে।  মানুষের মন  স্বাভাবিকভাবেই সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়। যতই  আমরা ক্ষয়িত হতে থাকি না কেন, আমরা কখনই মন্দের প্রতি আকৃষ্ট হই না। যতই আমাদের মধ্যে নিষ্ঠুরতা থাকুক না কেন, আমাদের মধ্যে  সহানুভূতি, ক্ষমা, ভালবাসা এবং নিষ্ঠার এই গুণগুলিও বর্তমান। 

সাহিত্য সামাজিক আদর্শের স্রষ্টা। আদর্শগুলি যখন দুর্নীতিগ্রস্থ হয়ে পরে, তখন পতন দ্রুত শুরু হয়। আধুনিক সভ্যতার বয়স মাত্র দেড়শ বছর। এমনকি এত অল্প সময়ে, বিশ্ব নতুন ক্রম-বর্ধমান সভ্যতাটিকে  নিয়ে সমস্যায় পড়েছে। আবার এর কোনো বিকল্পও পথও  নেই। এ যে অবশ্যম্ভাবী। এটা এমন একটা অবস্থা যেটাকে একমাত্র কল্পনা করা চলে একজন বে-পথে চলে যাওয়া মানুষের সঙ্গে, মানে, এমন একজন মানুষ যে   জানে  সে যে পথ নির্বাচন করেছে তা  ভুল, কিন্তু তার সেই পথ থেকে ফিরে আসারও  শক্তি নেই। তাকে এগিয়ে চলতে হবে, সেই পথ যদি ক্রুদ্ধ, উন্মত্ত সমুদ্রের তরঙ্গের দিকে চালিত করলেও। সে আসলে হতাশার হিংস্র শক্তিতে আবদ্ধ, আশাবাদের বিস্তৃত সাহসের দ্বারা নয়।

প্রকৃতি অনুসারে মানুষ ঈশ্বরবাদী। বিশ্ব-সংসারের  ভণ্ডামি ও ছলনার দ্বারা প্রভাবিত বা পরিস্থিতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তারা এই সদর্থক ভূমিকাটি  হারায়। সাহিত্য মানব গুণগুলিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে তার মূল জায়গায় - মানব হৃদয়ে। ধর্মোপদেশ বা শিক্ষার মাধ্যমে নয়, আবেগকে উজ্জীবিত করে, হৃদয়ের নরম তন্ত্রীতে আঘাত করে এবং প্রকৃতির সাথে সাদৃশ্য স্থাপনের মাধ্যমে, সাযুজ্য স্থাপনের মাধ্যমে। বিশ্বব্যাপী সর্বজনীন আত্মার মধ্যে, প্রতিটি দেশ বা একটি জাতির একটি পৃথক আত্মা থাকে। সাহিত্য সেই আত্মার প্রতিধ্বনি।

সাধারণত আমরা আমাদের যৌবনে এক প্রবল ধ্বংসের দিকে স্থির দৃষ্টি রাখি। সংস্কারের আকাঙ্ক্ষায় আক্রান্ত হই  আমরা ,আমরা যেন অন্ধভাবে তীর ছোঁড়া শুরু করি, আমরা বাস্তবতার খরস্রোতে নিজেদের চিন্তাভাবনাকে প্রবাহিত করি। আমরা বিবেচনা করি যে শিল্পের পরিপূর্ণতা  নগ্ন ছবি আঁকার মধ্যে দিয়ে, যা কিনা আসলে মন্দ বলে পরিগণিত হয়।  এটা  সত্য যে কেবল একটি বাড়ি  ভেঙেই  আমরা একটি নতুন বাড়ি তৈরি করতে পারি। অনেক সময় পুরানো বন্ধন এবং ছলচাতুরী ভেঙে ফেলার দরকার হয়ে পরে, তবে এটিকে সাহিত্য বলা যায় না। সাহিত্য তার নিজস্ব অনুশাসনকে  অনুসরণ করে।

কোনও ব্যক্তি  তার আসল এবং খাঁটি রূপ কোথায় দেখতে পায়?  সেটা কি পরম একাকীত্ত্বে ? একেবারে একা এবং এক  আনন্দিত মিথ্যার মধ্যে?কৃত্রিমতা এবং অস্থিরতা থেকে বহু দূরে।  নির্মুগ্ধের সাথে সত্যের কী সম্পর্ক থাকতে পারে?  আমার বিশ্বাস যে সাহিত্যে কেবল একটিমাত্র রস রয়েছে এবং তা হ'ল শৃঙ্গার রস অথবা প্রেমরস। সাহিত্যের দৃষ্টিকোণ থেকে, সৌন্দর্য্য এবং প্রেমবিহীন কোনও রসই সত্য রস নয়। যে কোনও সৃষ্টি যার উদ্দেশ্য কেবলমাত্র প্রবৃত্তি এবং আকাঙ্ক্ষাকে প্ররোচিত করা, এবং কেবলমাত্র অগভীর বিষয়বস্তুর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা, কোনও প্রকৃত এবং সত্যিকার সৃষ্টির পরিপন্থী।

(শেষ)


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কাকে বলে স্ট্রিম অফ কনসাসনেস বা মগ্নচৈতন্য ? -পর্ব ১ / What is Stream of Consciousness? Part -1

কাকে বলে স্ট্রিম অফ কনসাসনেস ? সাহিত্য ধারায় এটি এক রীতি, বলতে গেলে লেখনীর এক ধরণ। সাহিত্যের আলোচনায়  কিংবা সমালোচনায় 'স্ট্রিম অফ কনসাসনেস'- ‘Stream of Consciousness’  বা মগ্নচৈতন্য শুধুমাত্র এক শব্দ নয়, এ এক অনন্য, এক স্বতন্ত্র জঁর  ।  মগ্নচৈতন্যের   স্রোত সাহিত্যসৃষ্টির এক অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ন ধারা,  যা কিনা  বিংশ শতাব্দীর কিছু বিখ্যাত লেখক   নিযুক্ত এক স্বতন্ত্র লেখন রীতি। নিজেদের লেখনীতে কিছু ঘটনা পরম্পরাকে  বর্ণনা করতে ব্যবহার করেছিলেন তারা ।  কিন্তু '  মগ্নচৈতন্য '  কী?  কেনই বা  এটি একটি 'ধারা' বা ' জঁর' ?  কিছু  পরিচিতি দিলাম বটে শুরুতে কয়েকটি শব্দকে আশ্রয় করে, তবে  বিস্তারিত আলোচনা  এগোবে আস্তে আস্তে।  এই আপাত সাধারণ এবং একইসঙ্গে ব্যাপকভাবে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা যুক্ত , সাহিত্যিক টার্মটির ধারণা  পরিষ্কার করতে সহায়তা করতে পারে হয়ত এই  আলোচনা ।   Image Courtesy: Steve Jhonson:pixels.com/free image প্রকৃতপক্ষে, ' মগ্নচৈতন্য  '   সাহিত্যের  জঁর  হিসাবে একেবারেই শুরু করেনি    তার  জীবন !  তবে ?   অবাক করা তথ্য এই  যে - সম্ভবতঃ এটি ছিল   এ

নিজের সঙ্গে একা : এমিলি ডিকিনসন / Emily Dickinson : Women Liking Their Own Company

নিজের সঙ্গে থাকতে  চাওয়া কি একান্তই অপরাধ? সব সময় কি  লোকজন সংসর্গে থাকতেই হবে ?  কোনোভাবেই থাকা যায় না কি একা ? একদম একা, নিজের সঙ্গে একা ? "… আমি আমার বাবার জমি ডিঙিয়ে  কোনও বাড়ি বা শহরে যেতে পারি না," এমিলি ডিকিনসন লিখছেন তাঁর চিঠিতে, আর এই চিঠি লেখা হয়েছে লেখক, অবলিশনিস্ট  ও সৈনিক  কর্নেল থমাস ওয়েন্টওয়ার্থ  হিগিনসনকে।  একটি চিঠির  জবাবে তাঁকে এরকমটা লিখেছিলেন এমিলি।  তাঁকে হিগিনসন তিনবার বোস্টনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য, বিভিন্ন সাহিত্য বক্তৃতাগুলিতে অংশগ্রহণ করা এবং  অন্যান্য কবিদের সাথে সাহিত্যের আলোচনার জন্য সাক্ষাৎ। হিগিনসনের সঙ্গে এমিলি যোগাযোগ রাখতেন নিয়মিতই, তিনি ছিলেন বহির্জগতের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম, যার সাথে তিনি তাঁর কবিতাও ভাগ করে নিয়েছিলেন। কিন্তু তবুও তিনি তাঁর আমন্ত্রণগুলি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, এমনকি অন্য সমসাময়িক কবিদের সাথে দেখাও করতে চাননি। এমিলি ডিকিনসন Image Courtesy : wikipedia.org  সমস্ত মহিলারা নাকি  বিপজ্জনক! আমরা  যদি  বেশিরভাগ ট্রাডিশনাল টেক্সটগুলিতে একটু চোখ বোলাই তাহলেই  একথার সত্যতা যাচাই করা হয়ে যায়। বিশেষত যদি অনুসরণ করি পুরুষদের

বাণিজ্য নগরী মুম্বাই, সুয়েজ খাল এবং দেহ -ব্যবসা / Suez Canal, transformation of Mumbai and its Sex Trade

বাণিজ্য বিস্তার হচ্ছে, নাগরিক সভ্যতা ছড়িয়ে পড়ছে বন্দর-শহর তথা ভারতবর্ষের এই দামি বাণিজ্য নগরীটিতে। এর সঙ্গে সমান্তরালে পতিতালয়গুলি তৈরী হতে শুরু করে,পূর্ব ইউরোপীয় মহিলারাই সামলাতেন তা। সুয়েজ খাল এবং বোম্বাই নগরী , কি ভাবে সম্পর্কযুক্ত ?  ১৮৬৯  সালের ২৭ নভেম্বর,  দুর্ঘটনাটি ঘটে  মিশরে সুয়েজ খাল উদ্বোধনের ঠিক দশ দিন পরে,  মালপত্র  বোঝাই হয়ে  ভারতে আসছিল যে  জাহাজটি সেটি  লোহিত সাগরে ডুবে যায়।   শোক প্রকাশ  করেছিল  বোম্বাই গার্ডিয়ান । সাথে জানিয়েছিল যে, জাহাজটি আসছিল বোর্দো  থেকে, জাহাজের নাম  নোয়েল। সংবাদপত্রে উল্লিখিত, "বার্কটি সুয়েজ খালের মধ্যে  দিয়ে আসছিল ...গন্তব্য ছিল বোম্বাই, আর সঙ্গে নিয়ে আসছিল প্রচুর ওয়াইন" ।   অবশ্য, তাতে অন্যান্য জাহাজের  যাত্রাপথে কোনো  বাধার সৃষ্টি হয়নি। হয়নি কোনো অসুবিধাও। এই সুয়েজ খালের অল্প একটু ভূমিকা দেওয়া প্রয়োজন।  সুয়েজ খাল  ভূমধ্যসাগরকে লোহিত সাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে; সুয়েজ খালের উন্মুক্তকরণ এক  বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটিয়েছিল,  বিপ্লব ঘটিয়েছিল ইউরোপ এবং ভারতবর্ষের মধ্যেকার  বাণিজ্যিক সম্পর্কে -  কমিয়েছিল ইংল্যান্ড থেকে উপমহাদেশে ভ্র