সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পুতুলের বাক্স / ছোটগল্প সিরিজ - গল্প - ১ / Bengali Short Story


বড় নিঃস্তব্ধ এই সন্ধ্যা।  শীতকালীন সন্ধ্যা, বড় দীর্ঘ।  সূর্য তাহার সকল প্রকার প্রাতঃকালীন কর্ম সমাপন করিয়া  নিদ্রা যাইতেছে। এই আসমানও যেন ক্লান্ত এবং অবসন্ন বোধ করিতেছে।  বিস্তীর্ন চরাচর ব্যাপী কেহ যেন গাঢ় বিষাদের রং ছড়াইয়া দিয়াছে ।  পক্ষীকুল নিজদিগের বাসায় ফিরিয়া যাইতে ব্যস্ত। ছোট বালক বালিকা পক্ষিগণ অপেক্ষায় আছে তাহাদের মাতাপিতার। খাদ্য  লইয়া আসিবে তাহারা । ভারি এক ভুরিভোজ হইবে ! সমস্ত দপ্তর- কল কারখানা ছুটি হইয়া গিয়াছে। পুরুষেরা আপিসের ব্যাগ গুছাইয়া নিজ গৃহ অভিমুখে রওয়ানা দিয়াছে। ছোট-ছোট ছেলেমেয়েগুলিকে গৃহিনী তাগাদা দিয়া পড়িতে বসাইয়াছে।  আজ জলখাবারে লুচি হইয়াছে। কর্তার আবার লুচি ফুলকো না হইলে মন ভরে না। গৃহিণীর গা ধুইয়া একখানা ধোয়া সুতির কাপড় পরিয়া জলখাবার গুছাইয়া রাখিতেছে। আর তাহারই মধ্যে  বারংবার জানালার দিকে দৃষ্টি চলিয়া যাইতেছে। খোকা-খুকুরা অপেক্ষা করিতেছে  দম  দেওয়া পুতুল কি একটা লবেনজুসের। 

  শ্যামাপ্রসাদ নৌকার ছইয়ের ভিতরে শুইয়া এইসবই আকাশপাতাল ভাবিতেছিল। নৌকা স্বরূপগঞ্জের পাশ দিয়ে আসিবার সময় ভাঙ্গা মেলার দিকে কিয়ৎক্ষণ তাকাইয়াছিল সে। মেলা শেষ হইয়া গিয়াছে বোধকরি । অদ্যই শেষ রজনী।  বিক্রেতারা  ক্লান্ত বোধ করিতেছে, কিন্তু বুঝিবা বিক্রি খুব ভালো হইয়াছে। ''আজ বিক্রিবাটা কেমন ?''  বুঝিবা হাঁক পারিয়া জিজ্ঞাসা করিতেছে একে অপরকে। যাহাকিছু  বিক্রি হয় নাই তাহা  বুঝিবা গাঁঠরিতে বেঁধে নিতেছে  তাহারা । 
   
জিয়াগঞ্জ পৌছাইতে  আরো আধঘন্টা। 

মেলায় আসিতে সুলতাও বড় ভালোবাসে। শ্যামাপ্রসাদকে সঙ্গে করিয়া লইয়া  আসিতেই হয়। না হইলেই গোঁসা করে যে বড়!শ্যামাপ্রসাদের মা যদিও ছেলের এই অসৈরণ কান্ড একেবারেই পছন্দ করিতেন না।  মেলায় আসিলেই  কেমন যেন ছেলে মানুষ হইয়া যায় সুলতা। এই দোকানে যায় , সেই  জিনিসটা নাড়াইয়া - চারাইয়া,  ঘুরাইয়া ফিরাইয়া  দেখে। খাবারের দোকানগুলিতে ছুটিয়া ছুটিয়া যায়,  কেনা চাই খাবার, সবকিছু বড় আগ্রহভরে দেখে,  আশ আর মেটে না, যেন সব জিনিস একদিনেই কিনিয়া লইতে হইবে।

 পুব পাড়ার রাস্তা দিয়া একটুক্ষন ঘুরপথ হয়, আর এই পথ দিয়াই  মেলায়  যায়  শ্যামাপ্রসাদ আর সুলতা। এই পথ বড় নির্জন, তেমন কেউ আসে না এই পথে, পথের চারপাশে গাছের ছায়া, অদূরে জঙ্গল।  সুলতার কোমল হাতখানি  শ্যামাপ্রসাদ নিজ বলিষ্ঠ হস্তে চাপিয়া ধরে। সুলতা একটু লজ্জার ভান করিয়া দূরে সরিয়া যায়। বিকেলের পড়ন্ত গোধূলিতে সুলতার আরক্ত মুখখানিকে ভালো করিয়া দেখিবার অভিপ্রায় শ্যামাপ্রসাদ কাছে টানিয়া লয়। 

'' আহ, কি করচ, ছাড়ো ছাড়ো, কেউ দেকে ফেলবে যে, কি যে করো, আমার মাথা খাও, ছাড়ো বলচি '' - শ্যামাপ্রসাদ সহাস্যে ছাড়িয়া দেয়  কিন্তু হাতখানি ধরিয়া রাখে ।

  মেলা বসে চক্রবর্তী পাড়ার শেষ প্রান্তে। কত দোকানি আসিয়া   দোকান লাগায়। গাঁয়ের সবাই যায় মেলা দেখিতে। পুরুষেরা তাদের বাড়ির মেয়ে- বৌদিগের সঙ্গে করিয়া  লইয়া যায়। কত রকম লোকজন, কত তাদের কথাবার্তা, সবাই দোকান দেখিতেছে,   ছেলেপুলেরা পুতুলনাচ অথবা তামাশার আসরে ভিড় জমাইতেছে, মেয়ে- বৌয়েরা হাঁড়ি -কুরি দর করিতেছে। 

সুলতা চুড়ি পছন্দ করিতেছে। লাল,নীল রং-বেরংয়ের কত রকমারি  চুড়ি। চুড়ির পরে  পুঁতির মালা। কাঁচের চুড়ি বড় ভালোবাসে সুলতা। মেলায় আসিলে চুড়ি সে কিনিয়াই  ছাড়ে। সুলতার একখানি  বাক্স আছে, তাহার মধ্যে থাকে হরেক রকমের কাঁচের চুড়ি, ছোট ছোট কত রকমের খেলনা পুতুল , আরো কত কি । মেলা হইতে  খরিদ করা সমস্ত মহার্ঘ সামগ্রী সে তার পুতুলের বাক্সে রাখিয়া দেয়। সুলতা অনেক জিনিস জমাইয়াছে । মধ্যে মধ্যে শ্যামাপ্রসাদ তাহাকে জাপানি পুতুল কি কাঠের ঘোড়া আনিয়া দেয়। তাহাও জমা পরে সেই পুতুলের বাক্সে। বড় প্রিয় সেই বাক্স খানি ।  

সুলতা  দরিদ্র ঘরের মেয়ে, বিবাহের সময় প্রচুর দানসামগ্রী নিয়া আসে নাই সে। পিতৃগৃহ হইতে তেমন সোনার গহনাও দেয় নাই। সোনার গহনা যা দিয়াছিল  তা শ্যামাপ্রসাদের গৃহ হইতেই। সোনার গহনার প্রতি কোনোদিনই তাহার তেমন মন ছিল না। 

 খাবারও নিতে হইল অনেক রকমের, রকমারি মিষ্টান্ন, নোনতা খাবারই কতরকমের।  ফিরিবার পথ ওই পুব পাড়ার ঘুরপথ, সন্ধ্যা তখন গাঢ় হইয়া আসিয়াছে। বাড়ি ফিরিয়া একটু খানি জিলিপি ভাঙিয়া প্রায় জোর করিয়া সুলতার মুখে পুড়িয়ে দিল। আস্তে আস্তে চিবাইতেছে সুলতা,লাজুক  মুখখানা দেখিতে বড়োই আমোদ বোধ হয়  শ্যামাপ্রসাদের ।  

  
খাইতে বড় ভালোবাসে সে। পিতৃগৃহে ভালো করিয়া খাইতে পাইতো না। তাই সুখাদ্য  দেখিলে লোভ সামলাইতে পারে না । একবার এই করিতে গিয়া এক বিষম কান্ড ঘটিয়ে গিয়াছিল । রন্ধনের দায়িত্ত্ব শ্যামাপ্রসাদের মাতা সামলাইতেন। একদিন সকালে শ্যামাপ্রসাদ স্নান করিয়া খাইতে বসিয়াছে, আপিস যাইবে। হঠাৎ মায়ের  চিৎকার '' ও আবাগীর বেটি, খেতে পাস্ না, ভিখিরি  কোথাকার, নোলা তোমার এত, তাই না?..বাড়ির কারো খাওয়া হলো না আর উনি খেয়ে ফেলেছেন'' , শ্যামাপ্রসাদ দৌড়াইল। রান্নাঘরে একপাশে জড়সড় হইয়া দাঁড়াইয়া আছে সুলতা। মাথা নিচু। রান্না করিতে করিতে শ্যামাপ্রসাদের মাতা কি এক কর্মোপলক্ষ্যে একটুখানি  রান্নাঘরের বাহিরে গিয়াছেন, তরকারিতে নুন-মিষ্টান্ন অনুপাত ঠিক আছে কি না তা পরীক্ষা করিতে বলিয়া গিয়াছেন বধূকে । তাহা করিতে গিয়া ডিমের ডালনার অর্ধেকের বেশি খাইয়া ফেলিয়াছে সে ! বড় অপরাধীর মতো দাঁড়াইয়া ছিল। শ্যামাপ্রসাদের বড় কষ্ট হইয়াছিল।  সরিয়ে আসিয়া ছিল সে স্থান  হইতে। না হয় একটু খাইয়া ফেলিয়াছে। তা বলিয়া এই ভাবে বলিতে হইবে! সমস্তদিন  সুলতা উপবাসে রহিল। সেই ঘটনার পর হইতে সুলতা বড় কম খাইত আরম্ভ করিল। যদিও শ্যামাপ্রসাদের খাওয়া আগেই হইয়া যাইতো তবুও  মাকে লুকাইয়া রান্নাঘরে উঁকি মারিয়া একবার দেখিয়া লইতো সুলতা খাইয়াছে কি না। পূর্বের তুলনায় পাতে  কম ভাত তরকারি লইতো। শ্যামাপ্রসাদ অনেক বার বলার চেষ্টা করিয়াছে ,'' এত কম খাও কোনো তুমি? এরকম করলে শরীর টিকবে ? '' সুলতা কোনো উত্তর করিত না।  

এরপরেও যে সুলতা নম্র, ভদ্র, সলজ্জ, সর্বত্যাগিনী ও  শশুরকূলের সেবিকা হইয়া উঠিতে পারিয়াছি, একথা হলফ করিয়া বলা চলে না।  অবশ্যম্ভাবী অনাবশ্যক এবং অহেতুক কতগুলি কান্ড ঘটাইয়া ফেলিত। পাশের বাড়ির হেমদা পিসিমা জ্বরে বেহুঁশ হইয়া পড়িয়া আছে আজ দুইদিন হইল। তিনকূলে কেহ নাই তার। সকালবেলা প্রতিবেশিনীরা খোঁজ করিয়াছে বটে, তবে সারারাত্র জাগিয়া সেবা করিবার দায়িত্ত খানা সুলতাই তুলিয়া লইল। এমনি কত উদাহরণ। 

বৈঠার ছপাক শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ শোনা যাইতেছে  না। জলের  স্রোত একজায়গায় আসিয়া ঘূর্ণি পাকাইতেছে, সেইদিকে শ্যামাপ্রসাদ গভীরভাবে তাকাইয়াছিল।

বিভিন্ন কর্মকান্ড যখন বিরক্তির কারণ হইয়া উঠিতেছে, তখন সুলতা একখানা কান্ড ঘটাইয়া বসাইল। সোনার গহনা শ্যামাপ্রসাদের বাড়ি হইতে বিবাহের সময় দেওয়া হইয়াছিল প্রায় পঁচিশ ভরির মতো। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণ বসত সুলতার সোনার গহনার প্রতি  কোনো আগ্রহ ছিল না। সে ভালোবাসিত কাঁচের চুড়ি, পুঁতির মালা এইসব। এই কথা আগেই উল্লেখ হইয়াছে। 

পাশের বাড়ির নিত্যানন্দ কাকার মেয়ে বুঁচি একদিন তাহার মায়ের সহিত  শ্যামাপ্রসাদের গৃহে আসিল। গৃহে কোনো ছোট শিশু নাই। বুঁচি আসিয়াই সুলতার  সঙ্গী হইল, উহারা নিজেদের মধ্যে আমোদ করিতে লাগিল।  বুঁচি একখানা খেলার বাক্স সঙ্গে করিয়া  লইয়া আসিয়াছিল । কিন্তু বাড়ি যাইবার সময়  বাধিল গোল,বুঁচি কাঁদিতে লাগিল, সে নাকি তার খেলার বাক্সখানা খুঁজিয়া পাইতেছে না। বিস্তর খোঁজাখুঁজি হইল, কিন্তু পাওয়া গেল না। বুঁচি আর তার মা বাড়ি চলিয়া গেল। 

গোল সম্পূর্ণ রূপে বাঁধার বোধহয় আরো কিছু বাকি ছিল, এর দুইদিন পর শ্যামাপ্রসাদ সেদিন গৃহে বিশ্রাম করিতেছে। হঠাৎ চিৎকার '' চোর কোথাকার, চোর একটা, মর  তুই '' শ্যামাপ্রসাদ ছুটিয়া গিয়াছিল । উঠানে সুলতা পড়িয়া আছে, শাশুড়ি মাতা চুলের মুঠি ধরিয়া পিঠে ঘা কতক দিতেছে। বেশবাস বিস্রস্ত। পাশে দাঁড়াইয়া আছে বুঁচি আর তার মা , বুঁচির মা  বলিয়া চলিতেছে '' বাবা গো বাবা, সোনা নয় দানা নয় তোমার বৌ এর পুতুলের বাক্স চুরি করার ইচ্ছে গেলো? এতো বাপের জন্মে দেখিনি বাপু, তা হ্যাঁ গো তোমাদের বৌয়ের মাতার ব্যামো-ট্যামো আচে নাকি?'' কাপড়ে মুখ চাপিয়া বুঁচির মা হাসিতে লাগিল। সেখানে আরো কয়েকজন প্রতিবেশিনী উপস্থিত ছিল, তাহারাও সেই হাসিতে যোগ দিল। 

 সেদিনের পর  সুলতা নিজের পুতুলের বাক্সখানা আর খুলিয়াও দেখে নাই ।  শ্যামাপ্রসাদকে এরপরই  কলিকাতা চলিয়া আসিতে হয় কর্মসূত্রে। 

   নৌকা ঘাটে  আসিয়া ঠেকিল। সম্বিৎ ফিরিলো মাঝির কথায়  '' দা'বাবু এসে পরিচি , '' শ্যামাপ্রসাদ নামিয়ে আসিল।  ক্ৰোশখানেক  পথ এখনও । শ্যামাপ্রসাদ পথ চলিতে আরম্ভ করিল। শান্ত চতুর্দিক, কোনো কোলাহল নাই। 

একদিন রাত্রে, ঘুম ভাঙিয়া যাওয়াতে শ্যামাপ্রসাদ দেখিল সুলতা জানালার কাছে বসিয়া আপনমনে কি যেন ভাবিতেছে। শ্যামাপ্রসাদ কাছে যাইতেই সুলতা বলিয়া উঠিল '' এই দেখো এই আমার টুকরি পুতুল, আর এই আমার গনসা পুতুল, আর এই হলো গে  খুকি পুতুল, এ ভারী অভিমানী পুতুল।'' পুতুলগুলির গায়ে পরম মমতায় হাত বুলাইতে লাগিল।  খোলা বাক্সের ভিতরে ছিল অসংখ্য রং-বেরংয়ের চুড়ি, পুঁতির মালা, জরি, ফিতে, কাঠের খেলনা, মাটির খেলনা। সুলতার  অমূল্য সম্পদ। 

ধুতির কোঁচাটা ভালো করিয়া  জড়াইয়া লইলো। বাড়ির পথটা বড়োই কর্দমাক্ত।   চতুর্দিক বড় বেশি শান্ত যেন । পথ যেন আর শেষ হইতেই  চায় না। রাত্রি  আন্দাজ নয়টা  বাজে। দরজায়  করাঘাতের সঙ্গে সঙ্গে মা কবাট খুলিয়া  দিল। '' ও বাবা, শ্যামা, এত দেরি করলি কেন  বাবা, সেই  থেকে ঘরবার করচি।  আহা গো, বাছার আমার মুকখানা একেবারে শুকিয়ে গেচে। হাত মুকখানা  ধুয়ে আয় দেকি বাবা , আমি খাবার এনে দিচ্চি । '' মা বাতের ব্যথা লইয়াই ভিতর বাড়ি  চলিয়া গেল। 

শ্যামাপ্রসাদ নিজ ঘরটিতে প্রবেশ করিল। কমলমনি আয়নার সামনে দাঁড়াইয়াছিল, '' তোমার এত দেরি হলো যে, আমি তো ভাবছি এবার তুমি এলেই না। শোনো কাল কিন্তু গঞ্জে যাবো, এখানকার স্যাকরা ভালো ডিজাইনের গয়না করতে পারবে না। ...কি গো কিছু বলছো না যে। কি হলো আবার কোথায় যাচ্ছ ?'' 

শ্যামাপ্রসাদ আলমারির কোণ হইতে একটা বাক্স লইয়া ছাদে যাইবার সিঁড়ির দিকে চলিল। 

সুলতা আর নাই।  পুকুরে নাইতে গিয়া আর ফিরিয়া আসে নাই।  কমলমণি শ্যামাপ্রসাদের দ্বিতীয় পক্ষ, আড়তদার রমাকান্ত বাবুর স্কুল ফাইনাল পাশ করা মেয়ে ।







মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কাকে বলে স্ট্রিম অফ কনসাসনেস বা মগ্নচৈতন্য ? -পর্ব ১ / What is Stream of Consciousness? Part -1

কাকে বলে স্ট্রিম অফ কনসাসনেস ? সাহিত্য ধারায় এটি এক রীতি, বলতে গেলে লেখনীর এক ধরণ। সাহিত্যের আলোচনায়  কিংবা সমালোচনায় 'স্ট্রিম অফ কনসাসনেস'- ‘Stream of Consciousness’  বা মগ্নচৈতন্য শুধুমাত্র এক শব্দ নয়, এ এক অনন্য, এক স্বতন্ত্র জঁর  ।  মগ্নচৈতন্যের   স্রোত সাহিত্যসৃষ্টির এক অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ন ধারা,  যা কিনা  বিংশ শতাব্দীর কিছু বিখ্যাত লেখক   নিযুক্ত এক স্বতন্ত্র লেখন রীতি। নিজেদের লেখনীতে কিছু ঘটনা পরম্পরাকে  বর্ণনা করতে ব্যবহার করেছিলেন তারা ।  কিন্তু '  মগ্নচৈতন্য '  কী?  কেনই বা  এটি একটি 'ধারা' বা ' জঁর' ?  কিছু  পরিচিতি দিলাম বটে শুরুতে কয়েকটি শব্দকে আশ্রয় করে, তবে  বিস্তারিত আলোচনা  এগোবে আস্তে আস্তে।  এই আপাত সাধারণ এবং একইসঙ্গে ব্যাপকভাবে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা যুক্ত , সাহিত্যিক টার্মটির ধারণা  পরিষ্কার করতে সহায়তা করতে পারে হয়ত এই  আলোচনা ।   Image Courtesy: Steve Jhonson:pixels.com/free image প্রকৃতপক্ষে, ' মগ্নচৈতন্য  '   সাহিত্যের  জঁর  হিসাবে একেবারেই শুরু করেনি    তার  জীবন !  তবে ?   অবাক করা তথ্য এই  যে - সম্ভবতঃ এটি ছিল   এ

একটি প্রেমের গল্প : অমৃতা প্রীতম এবং সাহির লুধিয়ানভি / The love story of Amrita Pritam and Sahir Ludhianvi

প্রেমের গল্প। প্রেম ভাঙার গল্প। পাত্র-পাত্রী সাহির লুধিয়ানভি এবং অমৃতা প্রীতম। দিকপাল দুই সাহিত্যিক। কেমন ছিল সেই সম্পর্ক ? ''আমি তো জানতাম সাহির, তোমার কোনোদিনই আমার প্রতি প্রতিশ্রুতি রক্ষার কোনো দায় ছিল না । কি যেন বলে আজকাল ! ও হ্যাঁ , কমিটমেন্ট ফোবিয়া।  ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি রাখতে পারবে কি না সেই দ্বিধাতেই তো রয়ে গেলে। কেন  যেন মনে হয় আমার প্রতি তোমার ভালোবাসা  সেই গভীরতর  অতলান্ত  স্পর্শ করে নি কোনোদিন। ছুঁয়ে দেখেনি সেই ভালোবাসার তীব্র টানকে। আচ্ছা সত্যি করে বলো তো, তুমি কি সত্যি আমাকে ভালোবেসেছ  ? যতটা আমি তোমাকে বেসেছি।  "ম্যায়নে টুট  কে প্যায়ার কিয়া তুম সে / ক্যায়া  তুমনে ভী উতনা কিয়া মুঝ সে?'' অমৃতা প্রীতম এবং সাহির লুধিয়ানভি : Image Courtesy : Indian Express  ' ''মোহাব্বত কি পরখ  কা  ইয়েহি  তো রাস্তা  হ্যায় / তেরি  তালাশ মে নিকলু, তুঝে  না  পায়ু  ম্যায় '' । অমৃতা ভালোবাসা খুঁজেছেন, সেই আকুল করা ভালোবাসা,  হৃদয় তন্ত্রীতে সেই তীব্র ঝড় তোলা ভালোবাসা তাকেই তো খুঁজেছেন অমৃতা। পেয়েছেন কি ? খুঁজবো আমরা।  উপরের লাইনদুটি মজহা

একটি দিন / ছোটগল্প সিরিজ- গল্প -২ / Bengali Short Story

''দাদু, ও দাদু, সৈন্য কি গো?''- একটু চমকে উঠলো তামলিং।  হাতের কাজটা থামিয়ে  তুয়াংলিংয়ের দিকে  তাকালো  মুখ তুলে  ।  '' এই কথা কোথা থেকে জানলে দিদিভাই?'' '' ওই তো, বাজারে গেছিলাম আজকে , সেখানেই তো সবাই বলাবলি করছিলো, সৈন্যরা নাকি আজকে মাঙ্গোগিরির নেতা শিশিমারাকে ধরে নিয়ে গেছে।   মাঙ্গোগিরি   কি গো দাদু, আর নেতা মানে কি ? ওই শিশিমারা সে কে গো ?''  এত  প্রশ্নের সামনে প'রে তামলিং এর মুখে  জোগায় না  কথা  ।   বাড়ির সামনে বসে গাছগুলোকে পরিচর্যা করছে বুড়ো তামিলিং। তারপর করবে বাগানের পরিচর্যা। সবজি বাগানে বুড়ো তামলিং সবজি ফলায়।  সারা বছরের পরিবারের খাবারের জন্য সবজি এখন  থেকেই আসে যে । পরিবার বলতে বুড়ো তামলিং, তার বৌ বুড়ি তুয়ানকে এবং দুটো নাতি নাতনি  তুয়াংলিং আর শিনবোনা। আরো দুজন ছিল এই পরিবারে, যাদের কথা ভাবতে গেলে.... '' ও দাদু, কি গো চুপ করে রয়েছো কোনো ?'' বুড়ো তামলিং  তাকালো  উদাস চোখ তুলে , সামনে দাঁড়িয়ে তুয়াংলিং ,চোখে কৌতূহল।  '' যা জানতে চাইছো দিদিভাই, সে কথা বলতে গেলে অনেক গল্প বলতে হয়। '