সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

নিরঞ্জনবাবু / ছোটগল্প সিরিজ- গল্প -৩ / Bengali Short Story

নিরঞ্জনবাবু রোজ এসে এই পার্কের বেঞ্চিতে বসেন। সকাল সাতটা আর আর বিকেল পাঁচটা।  সময় দুটো একদম ঠিক করা আছে। কোথায় যেন একটা টিয়া পাখি ডাকছে না ? নিরঞ্জন বাবু ঘাড় ঘুরিয়ে এদিক ওদিক দেখবার চেষ্টা করলেন।  ছোট বেলায় গ্রামের বাড়িতে যেতেন, তখন টিয়ার ঝাঁক দেখতে পেতেন,  কি সুন্দর ! এক জায়গায় অনেকগুলো পাখি বসে থাকত, হাততালি দিয়ে তাদের উড়িয়ে দিতে চেষ্টা করতেন। খুব মজা পেতেন তাতে , এখন একবার দেখবেন নাকি ? ওই তো ওই জামরুল গাছের ডালটায় অনেকগুলো টিয়া বসে ডাকছে। এই বয়েসে এই রকম ছেলে মানুষি মানায় নাকি ?  কিন্তু কেই বা দেখতে যাচ্ছে এখানে , সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত।  ওই তো ওপাড়ার জগাদা মর্নিওয়াক করতে এসেছে। কানে একটা হেডফোন নিয়ে নিজের মনে জোরে জোরে হাঁটছে। পাশের বেঞ্চে একটা ছেলে - আর একটা মেয়ে বসে...এত সকালে এখানে কি করছে এরা ? দেখে তো মনে হয় স্কুলে পড়ে। এত গুজগুজ ফুসফুস করে কি এত গল্প করছে ? অবাক নিরঞ্জন বাবু, একি রে! এই বয়েসে প্রেম ? তাও  আবার এতো সকালে ফাঁকা পার্কে বসে ? স্কুল নেই এদের ? নাকি কোচিং যাবার নাম করে এখানে এসে বসে আছে ? অদ্ভুত সব! নিরঞ্জন বাবু কিঞ্চিৎ বিরক্ত, তাও  নিজেকে সামলালেন। তবে ভারী ভ

কাকে বলে স্ট্রিম অফ কনসাসনেস বা মগ্নচৈতন্য ? -পর্ব ১ / What is Stream of Consciousness? Part -1

কাকে বলে স্ট্রিম অফ কনসাসনেস ? সাহিত্য ধারায় এটি এক রীতি, বলতে গেলে লেখনীর এক ধরণ। সাহিত্যের আলোচনায়  কিংবা সমালোচনায় 'স্ট্রিম অফ কনসাসনেস'- ‘Stream of Consciousness’  বা মগ্নচৈতন্য শুধুমাত্র এক শব্দ নয়, এ এক অনন্য, এক স্বতন্ত্র জঁর  ।  মগ্নচৈতন্যের   স্রোত সাহিত্যসৃষ্টির এক অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ন ধারা,  যা কিনা  বিংশ শতাব্দীর কিছু বিখ্যাত লেখক   নিযুক্ত এক স্বতন্ত্র লেখন রীতি। নিজেদের লেখনীতে কিছু ঘটনা পরম্পরাকে  বর্ণনা করতে ব্যবহার করেছিলেন তারা ।  কিন্তু '  মগ্নচৈতন্য '  কী?  কেনই বা  এটি একটি 'ধারা' বা ' জঁর' ?  কিছু  পরিচিতি দিলাম বটে শুরুতে কয়েকটি শব্দকে আশ্রয় করে, তবে  বিস্তারিত আলোচনা  এগোবে আস্তে আস্তে।  এই আপাত সাধারণ এবং একইসঙ্গে ব্যাপকভাবে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা যুক্ত , সাহিত্যিক টার্মটির ধারণা  পরিষ্কার করতে সহায়তা করতে পারে হয়ত এই  আলোচনা ।   Image Courtesy: Steve Jhonson:pixels.com/free image প্রকৃতপক্ষে, ' মগ্নচৈতন্য  '   সাহিত্যের  জঁর  হিসাবে একেবারেই শুরু করেনি    তার  জীবন !  তবে ?   অবাক করা তথ্য এই  যে - সম্ভবতঃ এটি ছিল   এ

গোল্ডেন স্টেট খুনি / হত্যাকান্ড সিরিজ- পর্ব -৪ /Golden State Killer

এক ভয়ানক খুনির কাহিনী, প্রায় চল্লিশ বছর ধরে গোয়েন্দা আর পুলিশ বিভাগকে নাকানি -চোবানি খাইয়েছিল এই হত্যাকারী। '' এত ভোরে ফোন? উফফ একটু শান্তি নেই,, '' কথা গুলো মনে মনে বলে ব্যস্ত হয়ে টেলিফোনের দিকে হাত বাড়ালো সেক্রেমেন্টো পুলিশ ফাঁড়ির ডিউটিরত অফিসারটি। ঘড়িতে তখন কাঁটায় কাঁটায় ভোর ৫ টা ।  পুলিশ ফাঁড়ির সবাই তখন একটু ঝিমাচ্ছে। সারাটা রাত  ডিউটির পর, সবারই চোখে তখন হালকা ঘুম। হ্যাঁ, যা ভাবা হয়েছে তাই, বেশ বড়সড় বিপদ। এরপরেই দ্রুত নিজের নিজের কাজে নেমে পড়ল সবাই। ভোরের আলো  তখন সবে দেখা দিতে শুরু করেছে, কয়েকজন অফিসার গাড়ি নিয়ে রওনা হল ঘটনাস্থলের দিকে।   ১৯৭৬ সালের ১৮ই জুন।  পুলিশ পৌঁছয় অকুস্থলে, উদ্ধার করা হয় এক তরুণীকে, বয়েস তেইশের কাছাকাছি, পিছনে হাত পা বাঁধা অবস্থায় পরে ছিল সে, নাম শিলা। তবে এই অবস্থাতেও অসম সাহসিকতা আর ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে  সে। মুখ দিয়ে টেলিফোনটি প্রথমে মাটিতে ফেলে দেয় এবং তারপর পুরো শরীরটাকে পিছনে ঘুরিয়ে ওই বাঁধা হাত দিয়েই পুলিশের নম্বর এ ফোন করে। দেহে আঘাতের চিহ্ন ছিল। কাছের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়, কয়েকদিন বাদে একটু সুস্থ হয়ে ওঠার পর

যে স্মৃতি বয়ে যায় অসীমে : এমিলি ডিকিনসন ও তার স্মৃতিকথা / Drift to Loss - Emily Dickinson

এমিলি ডিকিনসন। মার্কিন এই কবির লেখা চিঠিতে পাই মৃত্যু নিয়ে অনেক কথা । আমেরিকান কবি মেগান  ও’রউর্ক    তার মাকে হারানোর  স্মৃতিতে লিখেছেন , “আমরা যাদের ভালোবাসি তারা যেন  আমাদের শরীরের  অংশ হয়ে রয়ে যায়, আমাদের সিনাপসেস এর  মতো করেই জুড়ে রাখে , যে পথে, যে স্মরণীতে  স্মৃতি তৈরি হতে থাকে। ”  মায়ের মৃত্যুর পর এমনিই কিছু অনুভবের কথা জানিয়েছেন  আরও একজন কবি  প্রায় এক শতাব্দী আগে। বয়ান পাই তার মায়ের পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া প্রসঙ্গে।  বিরল এক  দার্শনিক চেতনার প্রতিফলন থেকে যায় সেই মরমিয়া গদ্যে।  এমিলি ডিকিনসন; Image Courtesy : wikipedia.org   এমিলি ডিকিনসনের  (ডিসেম্বর ১০, ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দ - মে ১৫, ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দ ) মা যখন মারা যান , তখন তার বয়স বাহান্ন।  তার  আট বছর আগে একটা   স্ট্রোকে দীর্ঘদিন  শয্যাশায়ী ছিলেন   এমিলির মা  ।  পক্ষাঘাতগ্রস্থ।  প্রায় পুরোপুরি অক্ষম হয়ে  গিয়েছিলেন তিনি । আজীবন শারীরিক অসুস্থতা তাকে  করে তুলেছিল  তিতিবিরক্ত   ।  ভুগতে থাকা  শরীর -তার সঙ্গে-মনকেও বিপর্যস্ত করেছিল। নিজের জীবন ঘিরে চরম  অনাগ্রহ,  হতাশা আর বিসদৃশ রকমের বিরক্তি।   কিন্তু এসব  সত্ত্বেও  তাঁর কন্যার প্