সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

দ্যা বেল জার - সিলভিয়া প্লাথ - বাংলায় ভাবানুবাদ/The Bell Jar by Sylvia Plath - Translation In Bengali

 

দ্যা বেল জার - সিলভিয়া প্লাথ - বাংলায় ভাবানুবাদ/The Bell Jar by Sylvia Plath - Translation In Bengali


 এক অদ্ভুত, গুমোট গ্রীষ্মকাল, যে গ্রীষ্মে রোজেনবার্গ দম্পতিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে হত্যা করা হয়েছিল, আর আমি নিউ ইয়র্কে ঠিক কী করছিলাম তা নিজেই জানতাম না। মৃত্যুদণ্ড নিয়ে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কথা ভাবলেই আমার গা গুলিয়ে ওঠে, আর রাস্তার প্রতিটি মোড়ে বা প্রতিটি সাবওয়ের স্যাঁতসেঁতে, বাদামের গন্ধে ভরা প্রবেশপথে আমার দিকে তাকিয়ে থাকা খবরের কাগজের শিরোনামগুলোতে পড়ার মতো শুধু এই খবরই ছিল। বিস্ফারিত চোখের সামনে যেন এই খবরই পড়বার মতো ছিল। এর সাথে আমার কোনো সম্পর্ক ছিল না, কিন্তু আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না যে, সারা স্নায়ু জুড়েই ভেবে পাচ্ছিলাম না, যে শরীরে জীবন্ত দগ্ধ হওয়ার অনুভূতিটা কেমন হতে পারে। বারবার ভাবছিলাম। বরাবর এটাই যেন ভেবে এসেছি !!


আমি ভাবছিলাম এটা নিশ্চয়ই পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ ঘটনা।


নিউ ইয়র্ক এমনিতেই যথেষ্ট খারাপ ছিল। সকাল নটার মধ্যে - সারারাত ধরে কোনোমতে ঢুকে পড়া সেই কৃত্রিম, গ্রাম্য সতেজতাটা একটা মিষ্টি স্বপ্ন শেষ হওয়ার মতো মতো উবে গেল। স্বপ্নের শেষ ভাগে তাই কি দেখলাম! গ্রানাইটের গিরিখাতের গভীরে মরীচিকার মতো ধূসর উত্তপ্ত রাস্তাগুলো সূর্যের তাপে কাঁপছিল, গাড়ির ছাদগুলো হিসহিস করে ঝিকমিক করছিল, আর শুকনো, ছাইয়ের মতো ধুলো উড়ে এসে আমার চোখে ও গলার ভেতর ঢুকছিল।


চলবে 


রেডিওতে আর অফিসে রোজেনবার্গদের কথা শুনতে শুনতে একসময় তাদের কথা আমার মাথা থেকে কিছুতেই বের হচ্ছিল না। ব্যাপারটা ছিল ঠিক যেন প্রথমবার কোনো মৃতদেহ দেখার মতো। এর পরের কয়েক সপ্তাহ ধরে, মৃতদেহটার মাথা—কিংবা তার যা কিছু অবশিষ্ট ছিল—আমার সকালের জলখাবারে ডিম আর বেকনের পেছনে, আর বাডি উইলার্ডের মুখের পেছনে ভেসে উঠত। আর যার জন্যই আমি প্রথম ওটা দেখেছিলাম। আর খুব ধীরে ধীরে আমার এমন অনুভূতি হতে লাগল যেন আমি ওই মৃতদেহটার মাথা একটা সুতোয় বেঁধে বয়ে বেড়াচ্ছি, ভিনেগারের গন্ধে ভরা একটা কালো, নাকবিহীন বেলুনের মতো।


সেই গ্রীষ্মে আমি বুঝতে পারছিলাম আমার কিছু একটা সমস্যা হয়েছে, কারণ আমি শুধু রোজেনবার্গদের কথাই ভাবছিলাম, আর ভাবছিলাম আলমারিতে মাছের মতো নেতিয়ে পড়া ঐসব অস্বস্তিকর, দামী জামাকাপড় কিনে আমি কী বোকামি করেছিলাম। এবং কলেজে যা আনন্দের সাথে জমা পড়ছিল আমার সাফল্য, আমার ছোট ছোট সাফল্য গুলো - ম্যাডিসন অ্যাভিনিউয়ের মসৃণ মার্বেল আর কাঁচ দিয়ে বাঁধানো প্রশস্ত জায়গাগুলোর বাইরে গিয়ে কীভাবে যেন কিছুই না হয়ে মিলিয়ে গিয়েছিল।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কাকে বলে স্ট্রিম অফ কনসাসনেস বা মগ্নচৈতন্য / What is Stream of Consciousness?

কাকে বলে স্ট্রিম অফ কনসাসনেস ? সাহিত্য ধারায় এটি এক রীতি, বলতে গেলে লেখনীর এক ধরণ। সাহিত্যের আলোচনায়  কিংবা সমালোচনায় 'স্ট্রিম অফ কনসাসনেস'- ‘Stream of Consciousness’  বা মগ্নচৈতন্য শুধুমাত্র এক শব্দ নয়, এ এক অনন্য, এক স্বতন্ত্র জঁর  ।  মগ্নচৈতন্যের   স্রোত সাহিত্যসৃষ্টির এক অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ন ধারা,  যা কিনা  বিংশ শতাব্দীর কিছু বিখ্যাত লেখক   নিযুক্ত এক স্বতন্ত্র লেখন রীতি। নিজেদের লেখনীতে কিছু ঘটনা পরম্পরাকে  বর্ণনা করতে ব্যবহার করেছিলেন তারা ।  কিন্তু '  মগ্নচৈতন্য '  কী?  কেনই বা  এটি একটি 'ধারা' বা ' জঁর' ?  কিছু  পরিচিতি দিলাম বটে শুরুতে কয়েকটি শব্দকে আশ্রয় করে, তবে  বিস্তারিত আলোচনা  এগোবে আস্তে আস্তে।  এই আপাত সাধারণ এবং একইসঙ্গে ব্যাপকভাবে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা যুক্ত , সাহিত্যিক টার্মটির ধারণা  পরিষ্কার করতে সহায়তা করতে পারে হয়ত এই  আলোচনা ।   Image Courtesy: Steve Jhonson:pixels.com/free image প্রকৃতপক্ষে...

সাহিত্যিক এমিলি ডিকিনসনের চিঠিপত্র : একান্ত ভালোবাসা - সুসান গিলবার্ট/ Emily Dickinson’s Love Letters to Susan Gilbert

  এমিলির প্রেম, তাঁর কবিতার মতোই পবিত্র  সুন্দর। তাঁর একমাত্র প্রেম, তার কবিতার মতোই বহমান।  " আমাদের হৃদয়ের মধ্যে যে  গির্জা আছে, আজ সকালে আমার সঙ্গে সেখানে এস, যেখানে ঘণ্টা সবসময় বাজতে থাকে, এবং সেখানে একজনই প্রচারক থাকেন - যার নাম প্রেম - তিনি আমাদের জন্য সুপারিশ করবেন!" এমিলি তার ভালোবাসাকে খুঁজে পেয়েছেন , তাই তো তার জন্য তৈরী হয়েছে হাজার হাজার কবিতা।  এমিলি ডিকিনসন  ( ডিসেম্বর ১০,   ১৮৩০ -  মে ১৫ ১৮৮৬ )  দেখা পেয়েছেন তার পরম আকাঙ্খিত প্রাণের মানুষের। কুড়ি বছরে পা দিতে আর মাত্র চার মাস  বাকি। এই কি তবে জন্মদিনের শ্রেষ্ঠ উপহার ? জীবনের  থেকে শ্রেষ্ঠ উপহার ?    তার কুড়ি বছরের  জন্মদিনের চার মাস আগে, এমিলি  সেই ব্যক্তির সাক্ষাৎ পাবেন, যিনি হয়ে উঠবেন তাঁর  প্রথম প্রেম, তাঁর  মতে তাঁর জীবনের সর্বকালের সেরা নারী - সুসান গিলবার্ট- এক  অনাথ  প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গণিতবিদ, পুরো নয় দিনের  ছোট, কবির পুরো জীবন জুড়ে -পুরো হৃদয় জুড়ে আবাস; সুসান তাঁর জীবনী...

লিও টলস্টয় এবং তাঁর সমাজ চেতনা/ Leo Tolstoy And His Writings On Society

লিও টলস্টয় এবং তাঁর সমাজ চেতনা/ Leo Tolstoy And His Writings On Society সরকারের অবলুপ্তি এবং ভায়োলেন্সের অ্যান্টিডট হিসাবে রাষ্ট্রের অসারতা , এমন ভেবেছেন লিও তলস্তয়।  লিও তলস্তয়: Image Courtesy: Getty Images  “violence no longer rests on the belief in its utility, but only on the fact of its having existed so long, and being organized by the ruling classes who profit by it." হিংসা র এক উপযোগিতা আছে, আর তা নির্ভর করে কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষের বিশ্বাসের উপর । আমার আপনার মতের উপর নির্ভর করে না, তবে এটি কেন এতদিন বিদ্যমান সমাজে? এর থাকার একমাত্র কারণ এর  দ্বারা লাভবান হবার সম্ভাবনা একমাত্র শাসক শ্রেণীর। শাসক শ্রেণী দ্বারা সংগঠিত হিংসা। “to be led by a coward is to be controlled by all that the coward fears,” - কাপুরুষের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ, কাপুরুষের দ্বারা পরিচালিত, আর কাপুরুষের দ্বারা ভীতি প্রদর্শন-  অক্টাভিয়া বাটলার (o ctavia b)  লিখেছেন নেতাদের বেছে নেওয়ার বিষয়ে, তার তীব্র উপদেশ।  “to be led by a fool is to be led by the opportunists who control t...