সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

রুমি ও তাঁর কবিতা / Rumi and his Poetry


প্রেম নয়, বরং বলা ভালো অপ্রেম আর প্রেমের মধ্যে প্রেমকে বেছে নেওয়ার শিল্প, প্রেমকে বেছে নেওয়ার আর্ট : রুমির অন্টিডোট,  মানুষের ট্র্যাজেডির প্রতি।

রুমি ও তাঁর কবিতা / Rumi and his Poetry
জালালউদ্দিন মহম্মদ রুমি: Image Courtesy: wikimedia common

“you’ll long for me when i’m gone… you’ll kiss the headstone of my grave… kiss my face instead!

"আমি চলে গেলে তুমি আমার জন্য আকুল হবে... তুমি আমার কবরের শিরে চুম্বন করবে... পরিবর্তে আমার মুখ চুম্বন কর!

“what exists, exists so that it can be lost and become precious,” - যা আছে, যা বিদ্যমান, তা আছেই  যাতে তা হারিয়ে যায় আর মূল্যবান হয়ে ওঠে - লিসেল মুলার (lisel mueller) তার ছোট, অত্যাশ্চর্য কবিতায় লিখেছেন আমাদের নশ্বর জীবনের অর্থ কী। বর্ণনা করেছেন এভাবেই।

মূল্যবান হয়ে ওঠা—এটাই প্রেমের সার, প্রেমের এক ও একমাত্র লক্ষ্য, ভালোবাসার সত্য, ভালোবাসার সবথেকে বড় পুরস্কার।  মৃত্যুর প্রতিদান।  একটা মিরাকেল, একটা ম্যাজিক - এই প্রেম, এই ভালোবাসা - মানুষের জীবনের এক অলৌকিক ঘটনা - একটা ট্রান্সইয়েন্স, এই ক্ষণস্থায়ী জীবনকে কেবল সহনীয়ই নয় বরং সুন্দর করে তোলে।

হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগায়-  যখন, আমরা, আমাদের যা কিছু আছে, যা কিছুর অস্তিত্ব আছে, সব কিছু হারিয়ে ফেলতে শুরু করি।  আমরা, আমাদের ভালবাসার মানুষকে  হারাতে থাকি, নিজেদের হারাতে থাকি- যতক্ষণ না আমরা নিজেদের জীবন হারিয়ে ফেলি, কাছের মানুষদের হারাতে থাকি - অবিরত হারাতেই থাকি, আমাদের মহাবিশ্বে এমনটাই ঘটতে থাকে,  এর কোনো অন্যথা হতেই পারে না।   আমাদের জীবনের একমাত্র  হৃদয়বিদারক ঘটনা যা আমাদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে - তা  প্রায়শই আমাদের সন্মুখে উপস্থিত হবে-  উপস্থিত হবে তা আতঙ্কের ছদ্মবেশে। মৃত্যুর আতঙ্ক। ক্ষতির আতঙ্ক। টেরর অফ লস (terror of loss) । নিয়তি নিয়ন্ত্রিত ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে আমাদের।  মৃত্যুর ক্ষতি। এই মৃত্যুর আতঙ্কের সাথে মোকাবিলা করি আমরা প্রতি নিয়তই- নিজেদের মৃত্যু সম্পর্কে গভীরতম  বোধ কাজ করে এক।

আমরা একে অপরের কাছে কতটা মূল্যবান তা কিভাবে বোঝাই ! দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলার মতো চরমতম ঘটনার অনুভবের মত তা যে সত্য! সেই মুহুর্তটা কিরকম বোধ হয় ?  এক একটা মুহুর্ত নষ্ট হতে থাকে, প্রিয় মানুষটির সঙ্গে যেন ভালোবাসাহীন মুহুর্ত কাটাতে থাকি! কতক্ষণে আসবে দৃষ্টি ফিরে, কতক্ষণে দেখতে পাব আবার প্রিয়তম মানুষটিকে! একটা অলৌকিক সময়ের আলো তৈরী হবে, একটা ম্যাজিক ঘটে যাবে! আর এই ম্যাজিক মুহুর্তগুলোকে একত্র করে একটা সুযোগ তৈরী হয়ে যাবে। আমরা অপেক্ষা করতে থাকি। আমাদের দৃষ্টি পুনরুদ্ধারের অপেক্ষা আরও অনন্ত  হবে। অনেক দেরি হয়ে যাবে তারপরে। একটা অযাচিত শক্তি তার স্থান নিয়ে নেবে। নিয়তি বলব কি একে! এলোমেলো হয়ে যাবে অনেক কিছু। এনট্রপি (entropy) বলব আমরা তাকে। আমাদের স্ব-নির্মিত কিংবা নিয়তি নির্মিত ট্র্যাজেডি সম্পর্কে কবিতা এবং জনপ্রিয় অনেক গান লিখতে থাকব - “the art of losing isn’t hard to master“; “don’t it always seem to go that you don’t know what you’ve got till it’s gone.” - হারিয়ে যাওয়ার এই শিল্প আয়ত্ত করা কঠিন নয়;  সব সময় কি সব কিছু চলে যায়? কিছুই কি থাকেনা?  চলে যায় বলে মনে হয় না, আর চলে না যাওয়া পর্যন্ত আমরা জানতেই পারি না আমরা কি পেয়েছি। আমরা এর ভিতরে বাস করে যাই। এই ধারণার ভিতরে বাস করি । বাস করতেই থাকি।

মুলার এর (mueller) পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার আট শতাব্দী আগে, আমাদের স্ব-নির্মিত ট্র্যাজেডিকে অতিক্রম করে চলেছি, আর জীবনকে নিজের অস্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত করতে শুরু করেছি, তখনই আবিষ্কার করব এক আবেগময় আমন্ত্রণ যা কিনা জীবন-সত্যের গভীরতম স্তরের সাথে যোগসুত্র রেখে গিয়েছিল অনেক আগেই। একদম নতুন, একদম আলাদা, একদম অন্যরকম এক  যোগাযোগের প্রতিরূপ তৈরী হবে ধীরে ধীরে। ছোট ছোট ভাবনাগুলো অত্যাশ্চর্য কবিতায় রূপ নেয়: রুমি (সেপ্টেম্বর ৩০, ১২০৭-ডিসেম্বর ১৭ , ১২৭৩), যিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে “gamble everything for love, if you are a true human being.”   একজন সত্যিকারের মানুষ অবশ্যই প্রেমের জন্য  সবকিছুর উপর জুয়া খেলতে পারে। রুমি, প্রাচীন ও চিরন্তন।  চৌম্বকীয় তার বাগ্মীতা, প্রশ্নাতীত তাঁর ভক্তি এবং তার আত্মিক বুদ্ধিমত্তা ছটা।  তার ঘূর্ণায়মান সিল্কের পোশাকে রাজকীয়তা এবং তার কবিতায় দ্বন্দ্ব, প্রতিবাদী অবজ্ঞা, সংস্কৃতির মর্যাদা তাকে এক কাল্ট এর মর্যাদা দিয়েছে।  তাঁর কবিতা যেন আগ্নেয়গিরির ঔজ্জ্বল্য।

তাঁর ছেষট্টি বছরের জীবনে, রুমি প্রায় ছেষট্টি হাজার কবিতা রচনা করেছিলেন। বেঁচে থাকায়  আরও সম্পূর্ণতা আরও সজীবতা দান করেছে রুমির কবিতা।   আরও গভীরভাবে ভালবাসার জন্য এক নিবিষ্ট ও উচ্ছ্বসিত ভক্তি প্রয়োজন, সেই ভক্তি, সেই পরমানন্দের সন্ধান রুমির কবিতা।  কোয়াট্রেনের গাণিতিক সাংখ্য সঙ্গীত ( mathematical musicality of the quatrain ) আয়ত্ত করার পরে, তিনি রচনা করেন  কাপলেট ( couplet) ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সিরিজের কাপলেট , হয়ে ওঠেন গজলের একজন বিশারদ, গুণী ও স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব । রুমির রচনা প্রতিটিই যেন এক একটি ভিন্নতর কাব্যিক চিত্রকে নির্দেশ করে, সঙ্গীত আর স্থিরচিত্রের সে এক অপূর্ব মেলবন্ধন। প্রতিটি যেন এক একটি সময়কালের বিরতির সাথে তৈরী হওয়া নিপুণ ভাস্কর্য - বিস্ময়াভিষ্ট্ হই  তার কবিতা এক নিজস্ব ছন্দে গতিময় হয়েছে,লাভ করেছে প্রফুল্লতা। সুশোভিত করেছে কাব্যমালাকে। উল্লসিত হয়েছি তার কবিতা পাঠে।

এক যুগ, এক স্থির হতে থাকা ইতিহাসের সময়কে আর সংস্কৃতির কাব্যিক সত্যকে অন্য এক যুগের আয়নায় দেখতে চেয়েছেন, আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সৃজনশীল চ্যালেঞ্জকে,  প্রতিফলন দেখতে পাই  হালেহ লিজা গাফোরির লেখায়:

"the languages of farsi and english possess quite different poetic resources and habits. in english, it is impossible to reproduce the rich interplay of sound and rhyme (internal as well as terminal) and the wordplay that characterize and even drive rumi’s poems. meanwhile, the tropes, abstractions, and hyperbole that are so abundant in persian poetry contrast with the spareness and concreteness characteristic of poetry in english, especially in the modern tradition. i have sought to honor the demands of contemporary american poetry and conjure its music while, i hope, carrying over the whirling movement and leaping progression of thought and imagery in rumi’s poetry… i have chosen poems that seem to me beautiful, meaningful, and central to rumi’s vision, poems that i felt i could successfully translate and that speak to our times.

ফার্সি এবং ইংরেজি ভাষার বেশ ভিন্ন ধরণের কাব্যিক সম্পদ রয়েছে। শব্দ এবং ছড়ায় সমৃদ্ধ এই পারস্পরিক ক্রিয়া  (অভ্যন্তরীণ এবং পাশাপাশি প্রান্তিক) অর্থাৎ  শব্দ নিয়ে খেলা যা রুমির কবিতার বৈশিষ্ট্য এবং এমনকি এই শব্দের সম্ভার চালিত করে তা বিনির্মাণ করা প্রায় অসম্ভব ইংরেজিতে।  এদিকে, ফার্সি কবিতায় যে বক্রোক্তি, বিমূর্ততা এবং অতিশয়োক্তি প্রচুর পরিমাণে রয়েছে তা ইংরেজিতে বিশেষ করে আধুনিক  কবিতার স্বচ্ছতা এবং সংকীর্ণতার যে বৈশিষ্ট্যে, ঠিক তার বিপরীতে। আমি সমসাময়িক আমেরিকান কবিতার চাহিদাকে সম্মান করতে চেয়েছি এবং এর সঙ্গীতকে এর সঙ্গে মিশিয়ে দিতে চেষ্টা করেছি, আমি আশা করি, রুমির কবিতায় চিন্তা ও চিত্রকল্পের ঘূর্ণায়মান যে আন্দোলন এবং তার যে ঊর্ধ্বমুখী অগ্রগতি বহন করে, তার প্রতি সম্মান জানাতে পারব… আমি এমন কবিতা বেছে নিয়েছি যা আমার কাছে সুন্দর, অর্থবহ এবং ধারণার কেন্দ্রীভূত বলে মনে হয়।  রুমির দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি যা আমি অনুভব করেছি, আমি অনুভব করেছি সেই কবিতাগুলিই আমি সফলভাবে অনুবাদ করতে পারি  যেগুলি আমাদের সময়ের  কথা বলে।

নোবেল বিজয়ী পোলিশ কবি উইসলাওয়া সিজিমবোর্স্কার  ( wisława szymborska) ধারণা দিয়েছেন - “that rare miracle when a translation stops being a translation and becomes… a second original.” যে বিরল অলৌকিক ঘটনা ঘটে, যখন একটি অনুবাদ শুধুমাত্র অনুবাদ হওয়া বন্ধ করে দেয় এবং… দ্বিতীয় মূল সাহিত্য হয়ে যায়।

হালেহ গাফোরি (haleh liza gafori)  আমাদের জন্য অনুবাদ করেছেন, রুমিকে অনুভব করার,  এক স্ফটিক  স্বচ্ছ ধারণা রুমি সম্পর্কে, যা আমাদের স্ব-নির্মিত ট্র্যাজেডির বাইরে । গভীরতম, সম্ভবত, জীবনের একমাত্র সত্যে উপনীত হওয়ার জন্য আবেদন রাখে।

রুমির কবিতার এক চমকপ্রদ নির্বাচন আমরা দেখব:

let’s love each oth

by rumi (translated by haleh liza gafori)


let’s love each othe

let’s cherish each other, my friend

before we lose each other.


you’ll long for me when i’m gon

you’ll make a truce with me

so why put me on trial while i’m alive?


why adore the dead but battle the living


you’ll kiss the headstone of my grav

look, i’m lying here still as a corpse

dead as a stone. kiss my face instead!


(বাংলা অনুবাদ আমার কলমে)


একে অপরের প্রতি ভালোবাসা


চলো আমরা একে অপরকে ভালবা

চলো আমরা একে অপরকে লালন করি,

আমার বন্ধু,

একে অপরকে হারানোর আগে।


আমি চলে গেলে তুমি আমার জন্য প্রার্থনা করবে

তুমি আমার সাথে যুদ্ধবিরতি নেবে

তাহলে কেন আমি জীবিত অবস্থায় আমাকে বিচারের মুখোমুখি করা?


মৃতকে পূজা করে কেন জীবিতদের সাথে যুদ্ধ কর


তুমি আমার কবরের শিরোনাম চুম্বন করবে

দেখো, আমি এখানে লাশ হয়ে পড়ে আছি

পাথরের মত মৃত।  বরং আমার মুখে চুম্বন দাও


বহুল প্রশংসিত হয়েছে সোনার এই খনি, এই রত্ন, এই কবিতা আসলে তো এক বহুমূল্য রত্নই।  কীভাবে বিচ্ছেদ প্রেমের শক্তিকে আলোকিত করে, আলোর ছটা এসে লাগে প্রেমের শরীরে।  আমাদের চিন্তন প্রবেশ করে এর গভীরে... গভীরতর সেই শব্দ, গভীরতর সেই শব্দকে অনুভব করার চেষ্টায়।  আর্ট অফ লিসনিং ( the art of listening), বলতে গেলে আর্ট অফ ডিপ লিসনিং ( the art of deep listening)  - সেই গভীর অনুশীলন যা রুমির জীবনেরও কেন্দ্রবিন্দু - প্রেমের সম্পর্কের মূল আধার হিসাবে, সেই শিকড়ে ফিরব আমরা। তৈরী করতে থাকব সময়কাল উত্তীর্ণ হাইম।প্রেম এবং ক্ষতির হাইম।












 













x

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কাকে বলে স্ট্রিম অফ কনসাসনেস বা মগ্নচৈতন্য / What is Stream of Consciousness?

কাকে বলে স্ট্রিম অফ কনসাসনেস ? সাহিত্য ধারায় এটি এক রীতি, বলতে গেলে লেখনীর এক ধরণ। সাহিত্যের আলোচনায়  কিংবা সমালোচনায় 'স্ট্রিম অফ কনসাসনেস'- ‘Stream of Consciousness’  বা মগ্নচৈতন্য শুধুমাত্র এক শব্দ নয়, এ এক অনন্য, এক স্বতন্ত্র জঁর  ।  মগ্নচৈতন্যের   স্রোত সাহিত্যসৃষ্টির এক অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ন ধারা,  যা কিনা  বিংশ শতাব্দীর কিছু বিখ্যাত লেখক   নিযুক্ত এক স্বতন্ত্র লেখন রীতি। নিজেদের লেখনীতে কিছু ঘটনা পরম্পরাকে  বর্ণনা করতে ব্যবহার করেছিলেন তারা ।  কিন্তু '  মগ্নচৈতন্য '  কী?  কেনই বা  এটি একটি 'ধারা' বা ' জঁর' ?  কিছু  পরিচিতি দিলাম বটে শুরুতে কয়েকটি শব্দকে আশ্রয় করে, তবে  বিস্তারিত আলোচনা  এগোবে আস্তে আস্তে।  এই আপাত সাধারণ এবং একইসঙ্গে ব্যাপকভাবে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা যুক্ত , সাহিত্যিক টার্মটির ধারণা  পরিষ্কার করতে সহায়তা করতে পারে হয়ত এই  আলোচনা ।   Image Courtesy: Steve Jhonson:pixels.com/free image প্রকৃতপক্ষে, ' মগ্নচৈতন্য  '   সাহিত্যের  জঁর  হিসাবে একেবারেই শুরু করেনি    তার  জীবন !  তবে ?   অবাক করা তথ্য এই  যে - সম্ভবতঃ এটি ছিল   এ

কলকাতার জলছবি / Photos Of Old Kolkata & The Stories

কিছু তথ্য আর কিছু গল্প- এই নিয়েই বোধহয় এক একটি ছবির ইতিহাস লেখা হয়। আমার এই লেখায় স্থান করে নিয়েছে ভিন্ন স্বাদের পাঁচটি ছবি যাদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় খুব কম, তাই মনের মধ্যে লিখে নিতে হয় এর পিছনের ইতিহাস।  আজ আমরা দেখবো কলকাতাকে। না, পটভূমিকা  ঠিক আধুনিক কলকাতা নয়, বরং আজ আমরা একটু ফিরে দেখবো পুরোনো কলকাতাকে। কিছু ছবি, যা পেয়েছি গুগল এর সৌজন্যে; ছবিগুলো ইন্টারনেটে পাওয়া যায়, শুধু লেখাটা আমার। আমি আমার মতো করে চেষ্টা করেছি সেই পুরোনো কলকাতাকে ফিরে দেখতে। এক  একটা ছবিকে কেন্দ্র করে তৈরি করেছি নিজস্ব  কিছু গল্পের বুনোট। কলকাতার ব্যস্ততা- পুরোনো সেই ট্রাম, অপেক্ষমান লোকজন, কোথাও পৌঁছতে চাইছে , ঘরে ফেরার তাড়া-  মিলিয়ে মিশিয়ে কলকাতার একটা ব্যস্ত দিনের ছবি।রাস্তার একপাশে দাঁড়ানো ক্লান্ত গাড়িটাও একটু জিরিয়ে নিচ্ছে। জেগে উঠেছে কলকাতা। তার অবিরাম, নিরলস চলার এক টুকরো ছোঁয়াচ।  হয়তো ব্যস্ত সময় তখন, ব্যস্ত সন্ধ্যা কোনো, আবার হয়তো সারাদিন ই চলে এমন ব্যস্ততা। ব্যস্ত বাজার - খরিদারিতে ব্যস্ত কিছুজন । কিছুজন আবার মন দিয়ে করছে দরাদরি। কিছুজনের চোখ আবার রকমারি জিনিসের গুন্ পরী

বাংলা অণুগল্প- অনুগল্প সিরিজ /Bengali Story

অসীম আর মাধবীলতা অসীম.....এই যে এই দিকে, মাধবীলতা আবার ডাক দিলো,....... হ্যাঁ একদম ঠিক যাচ্ছ,......আমার হাতটা লক্ষ্য করে আস্তে আস্তে এগিয়ে এস, না না ওদিকে নয়.......ওদিকে কাঁটার ঝোপ......গায়ে ফুটে গেলে কেলেঙ্কারির একশেষ.....মাধবীলতা আর ভরসা রাখতে পারলো না, নিজেই এগিয়ে গিয়ে অসীমের হাত নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে হাঁটতে লাগলো। অসীমের জামাকাপড় ভিজে জবজব করছে। একজায়গায় থামলো তারা, বেশ নির্জন, একটা বাড়ির ভিতরে ঢুকে এল। একটু পুরোনো বাড়ি কিন্তু বসবাসের যোগ্য। মাথাটা মুছে নাও, বেশ ভিজেছ, ঠান্ডা ব'সে গেলে জ্বর আসতে পারে....মাধবীলতা হাতের মুঠো ছেড়ে দিয়ে একটা গামছা এগিয়ে দিল। .অসীম গামছাটা নিয়ে সামনে খোলা জানালার বাইরের পুকুরটার দিকে তাকিয়ে রইল একদৃষ্টে। মাধবীলতার শাড়ির আঁচলের একটা অংশ একটু দেখা যাচ্ছে। ওদিকটায় বোধহয় কাঁটাঝোপ ছিল. কালকের মধ্যে দুটো লাশ ই ভেসে উঠবে আশা করা যায় । -------------------------------------------- ছ'য়ে ছটাক : অনুগল্প ১. জানালাটার গ্রিলের মধ্যে দিয়ে নিজের চার হাত পা বের করে দিল সে, এবার শেকল দিয়ে বাঁধার কাজ শুরু হবে। ২.আমার পেনের কালিটা ধীরে ধীরে শেষ