সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

এডগার অ্যালান পো সিরিজ ১ l Edgar Allan Poe Series

এডগার অ্যালান পো এর "দ্য মার্ডারস ইন দ্য রু মর্গ"- “The Murders in the Rue Morgue” গোয়েন্দা গল্পের প্রথম আত্মপ্রকাশ হল এবং যাত্রা শুরু হল গোয়েন্দা কাহিনীর। 


এডগার অ্যালান পো সিরিজ l Edgar Allan Poe Series
এডগার অ্যালান পো: Image Courtesy : pixabay 

১৮৪১ সালের প্রথম দিক তখন, এডগার অ্যালান পো (Edgar Allan Poe) ফিলাডেলফিয়ার এক জনপ্রিয় প্রকাশনা গ্রাহামস ম্যাগাজিনের (Graham’s Magazine) সম্পাদক হিসাবে কাজ করছেন, পত্রিকায় একটি গল্প জমা দিয়েছিলেন, বহু খেটে গল্পটি লিখেছেন পো, যার নাম ছিল "মার্ডার্স ইন দ্য রু ট্রায়ানন " - “Murders in the Rue Trianon.” প্যারিসের রাস্তার পাশে একটি বাড়িতে একটি ভয়ঙ্কর জোড়া-খুনের ঘটনা ঘটেছে। বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী নিশ্চিত করেছেন যে বাড়ি থেকে একজনের কণ্ঠস্বর শোনা গেছে, তবে একজন বক্তা ঠিক কী ভাষা ব্যবহার করছেন সে বিষয়ে কেউ একমত হতে পারছে না। ভাষার ধাঁধায় গুলিয়ে যাচ্ছে গোটা ঘটনা। বেশ কিছু ক্লুও পাওয়া গেছে, কিন্তু সেগুলো প্রতিটি পরবর্তীটির চেয়ে আরও বিভ্রান্তিকর। প্রতিবেশীরা আতঙ্কিত। পুলিশ বিভ্রান্ত। কিন্তু সি. অগাস্ট ডুপিন (C. Auguste Dupin) একজন শেভালিয়ার (chevalier) এবং বিরল-বই-এর অনুরাগী, কাগজে ঘটনার বিস্তারিত পড়ার পর একদিন বাড়িতেই এই রহস্যের সমাধান করে ফেলেন এবং তার এক বন্ধুকে (যিনি গল্পটি বর্ণনা করছেন) তার সমাধান জানান। পো গল্পটি চূড়ান্ত করার আগে, পুরো ব্যাপারটিকে পাঠককে আরও কিছুটা ভয়ঙ্কর বলে মনে করানোর জন্য তিনি রুয়ে ট্রায়ানন (Rue Trianon) থেকে দুর্ভাগ্যজনক রাস্তার নাম "রুই মর্গে" - “Rue Morgue” পরিবর্তন করেছিলেন।

"দ্য মার্ডারস ইন দ্য রু মর্গ"- “The Murders in the Rue Morgue” এপ্রিল মাসে গ্রাহাম-এ প্রকাশিত হয়েছিল। ম্যাগাজিনটি পো কে এর জন্য এক বিশাল পরিমাণ অর্থ প্রদান করেছিল! ৫৬ মার্কিন ডলার ($56)। যা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে তারা শুধুমাত্র তার কবিতা "দ্য রেভেন"- “The Raven”এর জন্য মাত্র ৯ ডলার ($9) দিয়েছিল! সম্ভবত তারা বুঝতে পেরেছিল যে গল্পটি আসলে সময়ের থেকে কতটা এগিয়ে ছিল, কতটা আধুনিক ছিল। প্রকৃতপক্ষে, গল্পটি সাহিত্যের প্রথম সত্যিকারের গোয়েন্দা চরিত্রের পরিচয় দিয়েছিল পাঠক মনে, এবং খুব শিগগিরই এক ধারার সৃষ্টি করবে, শুরু হবে সাহিত্যের এক ধারা বিপ্লবের (genre revolution) , এমনই মনে করেছিল সাহিত্যিক সমাজ। ডুপিন (Dupin) আরও দুটি গল্পে আবার উপস্থিত হবে পাঠকের জনপ্রিয়তায়: "দ্য মিস্ট্রি অফ ম্যারি রোগেট"- “The Mystery of Marie Rogêt,”, প্রকাশিত হয় ১৮৪২ সাল থেকে ১৮৪৩ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে, এবং ১৮৪৪ সালে "দ্য পুরলোইনড লেটার"- “The Purloined Letter” ।

আধুনিক গোয়েন্দা সাহিত্যের বিকাশে, এই ডুপিনের প্রভাবের উপর জোর না দেওয়া প্রায় অসম্ভব। পো শুধুমাত্র ভদ্রলোক স্লুথ/আর্মচেয়ার (gentleman sleuth/armchair) গোয়েন্দা আর্কিটাইপ (archetype) তৈরি করেননি যা শুধু মাত্র বিশ শতকের প্রথমার্ধে রহস্য কল্পকাহিনীর স্বর্ণযুগে বিশেষ স্থান দখল করবে এব এতটা বিখ্যাত হয়ে উঠবে, তিনি সম্ভবত সাহিত্যের সবচেয়ে বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র, শার্লক হোমসকে (Sherlock Holmes)  অনুপ্রাণিত করার জন্যও দায়ী থাকবেন।

প্রকৃতপক্ষে, শার্লক হোমসের প্রথম কাহিনী, বলতে গেলে প্রথম নভেলা, উপন্যাস এ স্টাডি ইন স্কারলেট (১৮৮৭) - A Study in Scarlet (1887), ওয়াটসন হোমসকে তাদের প্রথম সাক্ষাতের সময়কে ডুপিনের সাথে তুলনা করেছেন। হোমসের বিশ্লেষণী প্রতিভা দেখার পরে, ওয়াটসন (Watson)  এডগার অ্যালেন পোয়ের ডুপিনের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। আমার ধারণা ছিল না যে এই ধরনের ব্যক্তিরা কাহিনীর বাইরেও বিদ্যমান ছিল৷'' ওয়াটসন বলছেন,- “You remind me of Edgar Allen Poe’s Dupin. I had no idea that such individuals did exist outside of stories.” ওয়াটসন ডুপিনের গল্পগুলির দ্বারা প্রস্তাবিত একটি ন্যারেশনে  অংশ নেন - ডুপিনের সহায়ক বর্ণনাকারী বা সাপোর্টিভ ন্যারেটর -supportive narrator/ক্রণিকলার (chronicler) হিসেবে  এবং বন্ধুর, যার কোনো নাম নেই৷ হোমস, যদিও, ডুপিনের সাথে তুলনা করা পছন্দ করেন নি। "কোন সন্দেহ নেই যে আপনি মনে করেন যে আপনি আমাকে ডুপিনের সাথে তুলনা করে প্রশংসা করছেন," -“No doubt you think that you are complimenting me in comparing me to Dupin,” হোমস বলছেন ওয়াটসনকে । “এখন, আমার মতে, ডুপিন খুব নিকৃষ্ট লোক ছিল। এক-চতুর্থাংশ নীরবতার পরে একটি প্রস্তাবিত মন্তব্য দিয়ে তার বন্ধুদের চিন্তাভাবনা ভেঙ্গে ফেলার যে কৌশলটি সে আয়ত্ত করেছিল তা সত্যিই শুধুমাত্র প্রদর্শনী এবং ওপর ওপর ভাসা ভাসা। তার কিছু বিশ্লেষণাত্মক প্রতিভা ছিল, সন্দেহ নেই; কিন্তু সে কোনভাবেই এমন কোনো ফেনো মেনন ছিলেন না যা পো কল্পনা করতে পারতেন না।" - “Now, in my opinion, Dupin was a very inferior fellow. That trick of his of breaking in on his friends’ thoughts with an apropos remark after a quarter of an hour’s silence is really very showy and superficial. He had some analytical genius, no doubt; but he was by no means such a phenomenon as Poe appeared to imagine.”  

কিন্তু আর্থার কোনান ডয়েলের (Arthur Conan Doyle) কোনো দ্বিধা ছিল না, স্পষ্ট ছিলেন তিনি যে প্রগলভ হোমস প্রকৃতপক্ষে ডুপিনের (Dupin) কাছে ঋণী। কয়েক বছর পরে, কোনান ডয়েল লিখেছিলেন,“Each [of Poe’s detective stories] is a root from which a whole literature has developed… Where was the detective story until Poe breathed the breath of life into it?” পোয়ের প্রত্যেকটি গোয়েন্দা গল্পগুলির একটি মূল ভরকেন্দ্র আছে যেখান থেকে একটি সম্পূর্ণ সাহিত্য গড়ে উঠেছে… পো এর গোয়েন্দা গল্পের মধ্যে যেন প্রাণের বাতাস খুঁজে পাওয়া যায়।



 




 





 






মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কাকে বলে স্ট্রিম অফ কনসাসনেস বা মগ্নচৈতন্য / What is Stream of Consciousness?

কাকে বলে স্ট্রিম অফ কনসাসনেস ? সাহিত্য ধারায় এটি এক রীতি, বলতে গেলে লেখনীর এক ধরণ। সাহিত্যের আলোচনায়  কিংবা সমালোচনায় 'স্ট্রিম অফ কনসাসনেস'- ‘Stream of Consciousness’  বা মগ্নচৈতন্য শুধুমাত্র এক শব্দ নয়, এ এক অনন্য, এক স্বতন্ত্র জঁর  ।  মগ্নচৈতন্যের   স্রোত সাহিত্যসৃষ্টির এক অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ন ধারা,  যা কিনা  বিংশ শতাব্দীর কিছু বিখ্যাত লেখক   নিযুক্ত এক স্বতন্ত্র লেখন রীতি। নিজেদের লেখনীতে কিছু ঘটনা পরম্পরাকে  বর্ণনা করতে ব্যবহার করেছিলেন তারা ।  কিন্তু '  মগ্নচৈতন্য '  কী?  কেনই বা  এটি একটি 'ধারা' বা ' জঁর' ?  কিছু  পরিচিতি দিলাম বটে শুরুতে কয়েকটি শব্দকে আশ্রয় করে, তবে  বিস্তারিত আলোচনা  এগোবে আস্তে আস্তে।  এই আপাত সাধারণ এবং একইসঙ্গে ব্যাপকভাবে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা যুক্ত , সাহিত্যিক টার্মটির ধারণা  পরিষ্কার করতে সহায়তা করতে পারে হয়ত এই  আলোচনা ।   Image Courtesy: Steve Jhonson:pixels.com/free image প্রকৃতপক্ষে, ' মগ্নচৈতন্য  '   সাহিত্যের  জঁর  হিসাবে একেবারেই শুরু করেনি    তার  জীবন !  তবে ?   অবাক করা তথ্য এই  যে - সম্ভবতঃ এটি ছিল   এ

কলকাতার জলছবি / Photos Of Old Kolkata & The Stories

কিছু তথ্য আর কিছু গল্প- এই নিয়েই বোধহয় এক একটি ছবির ইতিহাস লেখা হয়। আমার এই লেখায় স্থান করে নিয়েছে ভিন্ন স্বাদের পাঁচটি ছবি যাদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় খুব কম, তাই মনের মধ্যে লিখে নিতে হয় এর পিছনের ইতিহাস।  আজ আমরা দেখবো কলকাতাকে। না, পটভূমিকা  ঠিক আধুনিক কলকাতা নয়, বরং আজ আমরা একটু ফিরে দেখবো পুরোনো কলকাতাকে। কিছু ছবি, যা পেয়েছি গুগল এর সৌজন্যে; ছবিগুলো ইন্টারনেটে পাওয়া যায়, শুধু লেখাটা আমার। আমি আমার মতো করে চেষ্টা করেছি সেই পুরোনো কলকাতাকে ফিরে দেখতে। এক  একটা ছবিকে কেন্দ্র করে তৈরি করেছি নিজস্ব  কিছু গল্পের বুনোট। কলকাতার ব্যস্ততা- পুরোনো সেই ট্রাম, অপেক্ষমান লোকজন, কোথাও পৌঁছতে চাইছে , ঘরে ফেরার তাড়া-  মিলিয়ে মিশিয়ে কলকাতার একটা ব্যস্ত দিনের ছবি।রাস্তার একপাশে দাঁড়ানো ক্লান্ত গাড়িটাও একটু জিরিয়ে নিচ্ছে। জেগে উঠেছে কলকাতা। তার অবিরাম, নিরলস চলার এক টুকরো ছোঁয়াচ।  হয়তো ব্যস্ত সময় তখন, ব্যস্ত সন্ধ্যা কোনো, আবার হয়তো সারাদিন ই চলে এমন ব্যস্ততা। ব্যস্ত বাজার - খরিদারিতে ব্যস্ত কিছুজন । কিছুজন আবার মন দিয়ে করছে দরাদরি। কিছুজনের চোখ আবার রকমারি জিনিসের গুন্ পরী

বাংলা অণুগল্প- অনুগল্প সিরিজ /Bengali Story

অসীম আর মাধবীলতা অসীম.....এই যে এই দিকে, মাধবীলতা আবার ডাক দিলো,....... হ্যাঁ একদম ঠিক যাচ্ছ,......আমার হাতটা লক্ষ্য করে আস্তে আস্তে এগিয়ে এস, না না ওদিকে নয়.......ওদিকে কাঁটার ঝোপ......গায়ে ফুটে গেলে কেলেঙ্কারির একশেষ.....মাধবীলতা আর ভরসা রাখতে পারলো না, নিজেই এগিয়ে গিয়ে অসীমের হাত নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে হাঁটতে লাগলো। অসীমের জামাকাপড় ভিজে জবজব করছে। একজায়গায় থামলো তারা, বেশ নির্জন, একটা বাড়ির ভিতরে ঢুকে এল। একটু পুরোনো বাড়ি কিন্তু বসবাসের যোগ্য। মাথাটা মুছে নাও, বেশ ভিজেছ, ঠান্ডা ব'সে গেলে জ্বর আসতে পারে....মাধবীলতা হাতের মুঠো ছেড়ে দিয়ে একটা গামছা এগিয়ে দিল। .অসীম গামছাটা নিয়ে সামনে খোলা জানালার বাইরের পুকুরটার দিকে তাকিয়ে রইল একদৃষ্টে। মাধবীলতার শাড়ির আঁচলের একটা অংশ একটু দেখা যাচ্ছে। ওদিকটায় বোধহয় কাঁটাঝোপ ছিল. কালকের মধ্যে দুটো লাশ ই ভেসে উঠবে আশা করা যায় । -------------------------------------------- ছ'য়ে ছটাক : অনুগল্প ১. জানালাটার গ্রিলের মধ্যে দিয়ে নিজের চার হাত পা বের করে দিল সে, এবার শেকল দিয়ে বাঁধার কাজ শুরু হবে। ২.আমার পেনের কালিটা ধীরে ধীরে শেষ