সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

তরু দত্ত: সাহিত্যের খোঁজ ও বিন্যাস / Life Of Toru Dutta

আমার বিশেষ আগ্রহের বিষয়বস্তু তরু দত্ত। প্রথম ভারতীয় মহিলা সাহিত্যিক যিনি ইংরেজি এবং ফরাসি  ভাষায় সাহিত্য রচনা করেন।  তরু দত্তের সাহিত্য এবং জীবন , এই আমার লেখার বিষয়।  কয়েকটি  পর্বে  লিখব  লেখিকার  জীবনী।  


তরু দত্ত: সাহিত্যের খোঁজ ও  বিন্যাস / প্রথম পর্ব / Life  Of Toru Dutta
Image Courtesy: wikipedia.org

      এই কাহিনী শুরু হয়েছে  গত শতকের ভারতবর্ষে, যে ভারতবর্ষের পটভূমিতে  দিগ্বিজয়ের ইতিহাস গাঁথা থাকে। এমনই এক সময়ের গল্প এটি। গল্প নামের এই  সত্যি কাহিনী সেই শতকের  যে শতকে মহিলাদের জন্য ঘর-সংসারের ইচ্ছাহীন জীবন বেছে  দেওয়া হ'তো, ঠিক সেই সময়, সেই স্থির সময়ের বৈপরীত্য - চলমান সময়দাঁড়িয়ে  প্রকৃতপক্ষে ইতিহাসের এক সুবর্ন লগ্নে সাহিত্যের এক উদ্বেল সূচনা হয়েছিল। "moving-contrasts" এর ভিতরে আর এক ধরণের বৈপরীত্য কাজ করত, এই বৈপরীত্যের ভিতরে একটা গল্প সোজাসুজি চলতে থাকে, আর আর একটা গল্প চলতে থাকে  উল্টোপথে। ভারতীয় সমাজ সংস্কৃতিতে তখন শুরু হয়ে গেছে কাহিনীকে গেঁথে নেবার ছাপ।

 আমাদের বিষয়  ভারতের মহিলা সাহিত্যিকদের  মধ্যে বিদেশী           ভাষায় লেখালেখি। ইংরেজিতে লেখালেখি শুরু হয়েছিল কেবলমাত্র     উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে, আর তা শুরু করবার পুরোভাগে ছিলেন     দত্ত বোনেরা। তা একমাত্র সম্ভবপর হয়েছিল তাঁদের দ্বারাই। এ         এমন  এক সময়, যখন নারীদের সাধারণত "মুক্তি" সম্ভাবনার কারণে    ইংরেজীর  ব্যবহার তথা শিক্ষা থেকেই থেকে দূরে রাখা হত,যা কিনা গোঁড়া পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতিষ্ঠার জন্য একদম অনুরূপ। কিংবা হুমকিস্বরূপ। যদি আটকানো যেতে পারে সূচনা, সূচনা এক নতুন অধ্যায়ের। কিন্তু না আটকানো গে'ল না, ভারতীয় নারীদের বিদেশি ভাষার লেখনীর শুভ সূচনা হল।  লেখা তার নিজস্ব গতিপথে এগোতে থাকল। ভারতীয় লেখিকাদের দ্বারা এই  ক্ষেত্রটি স্পষ্ট হয়ে উঠল, করা হ'ল আরো বেশি আকর্ষণীয়

"emancipatory" যা স্বাধীনতাকে আহ্বান করবে। সেই ছিল তরুর নিজের স্বাধীন সাহিত্য ক্ষেত্রের গড়ে ওঠার কাহিনী। ঐতিহাসিকভাবে যদিও, ভারতে মহিলারাই, তথা মহিলা কথাকারেরাই ছিলেন পুরোভাগে, পুরোপুরিভাবেই পৌরাণিক কাহিনী, কিংবদন্তি গল্পকথা, গান এবং কল্পকাহিনী মুড়ে দিয়ে গল্প বলার আর্টটিকে সমৃদ্ধতর করেছেন , মুখ্য বাহিকা হয়েছেন এনারাই , ঐতিহ্যের চিহ্ন বাহিকা, এবং বিচিত্র মৌখিক গল্প বলার কথন ঐতিহ্যকে ধারণ করে রেখেছেন এই মহিলা সাহিত্যিকেরা। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে যখন নারীশিক্ষার আবহ সমাজে ছড়িয়ে পড়া শুরু হয়েছিল; দেখতে শুরু করবো এক রূপান্তর, নারীদের জীবনের সেই রোজকার গল্পগুলি কবিতা, নাটক এবং সাহিত্যের অন্যান্য রূপগুলিতে স্থানান্তরিত হতে শুরু করেছে। এখানে আমরা দত্ত বোনেদের-অরু এবং তরুর জীবন ও কাজের মধ্য দিয়ে ভারতের মহিলাদের দ্বারা ইংরেজিতে লেখার সূচনাটি পুনরায় দেখার চেষ্টা করি যা এক অর্থে  সাহিত্যসংগ্রামকে সত্যই চিত্রিত করে এবং প্রথম ভারতীয় ইংরেজীভাষায় মহিলা লেখকদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিষ্ঠা করে।

ভারতীয় মহিলা সাহিত্যিকেরা বেছে নিচ্ছেন তাঁদের সাহিত্য- জীবনকে, বুঝে নিচ্ছেন সময়ের সহজ হিসেব, প্রকৃতপক্ষে ইতিহাসের সব হিসেব- নিকেশ। এমন একটি সময় কাল, ইংরেজি ভাষায় লেখা হচ্ছে সাহিত্য,  সক্ষম হচ্ছে নিজের নিজের  ক্ষেত্রকে  ছাপিয়ে যাবার।  যখন সবকিছুই স্থির, তখনই শুরু হতে যাচ্ছে দোলাচল। বা বলা ভালো একক বৈপরীত্য অবস্থান।

যদিও এর আগে বহু ভারতীয় মহিলা-সাহিত্যিক  আঞ্চলিক ভাষায় কবিতা এবং গল্প- উপন্যাস রচনা করেছিলেন, তবে তা আঞ্চলিক ভাষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। 

ভারতের মহিলা সাহিত্যিকদের মধ্যে ইংরেজিতে লেখালেখির কথা যদি অবতারণা করি তাহলে আবার ফিরে যাই ইতিহাসের সরণিতে, অন্বেষণ করি ভারতীয় মহিলা সাহিত্যিকদের ইংরেজি সাহিত্য রচনার সুচনাকে। আর এই সূচনালগ্নে এলেন অরু দত্ত এবং তরু দত্ত। এগোব আমরা তরু দত্তের জীবনকে ঘিরেই। 

অরু ও তরু - দত্ত বোনদের জীবন ও কাজের মধ্য দিয়ে ভারতীয়  মহিলা সাহিত্যিকদের  দ্বারা ইংরেজিতে লেখার সূচনাটি এখানে পুনরায় দেখার চেষ্টা করেছি - যা সত্যিকার অর্থে সাহিত্য সংগ্রামকে কল্পিত করল এবং প্রথম ভারতীয় ইংরেজী মহিলা লেখকদের কল্পনা বাস্তব রূপ নিল।

এই সেই সময়কাল যখন স্থির কিংবা চলমান ইতিহাসকে নির্ণীত করা হচ্ছিল ঠিক তার পুরোভাগে দাঁড়িয়ে epitomize করব, ছবিগুলো মিথোলজি দিয়ে জারিত করব। নারী সাহিত্যিকেরা নিচ্ছেন upholder এর ভূমিকা , সাহিত্য-সম্পদে এক retrospective শুরু হচ্ছে। অনেক বড় একটা journey, rendering শুরু করে দিলাম।

(চলবে)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কাকে বলে স্ট্রিম অফ কনসাসনেস বা মগ্নচৈতন্য / What is Stream of Consciousness?

কাকে বলে স্ট্রিম অফ কনসাসনেস ? সাহিত্য ধারায় এটি এক রীতি, বলতে গেলে লেখনীর এক ধরণ। সাহিত্যের আলোচনায়  কিংবা সমালোচনায় 'স্ট্রিম অফ কনসাসনেস'- ‘Stream of Consciousness’  বা মগ্নচৈতন্য শুধুমাত্র এক শব্দ নয়, এ এক অনন্য, এক স্বতন্ত্র জঁর  ।  মগ্নচৈতন্যের   স্রোত সাহিত্যসৃষ্টির এক অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ন ধারা,  যা কিনা  বিংশ শতাব্দীর কিছু বিখ্যাত লেখক   নিযুক্ত এক স্বতন্ত্র লেখন রীতি। নিজেদের লেখনীতে কিছু ঘটনা পরম্পরাকে  বর্ণনা করতে ব্যবহার করেছিলেন তারা ।  কিন্তু '  মগ্নচৈতন্য '  কী?  কেনই বা  এটি একটি 'ধারা' বা ' জঁর' ?  কিছু  পরিচিতি দিলাম বটে শুরুতে কয়েকটি শব্দকে আশ্রয় করে, তবে  বিস্তারিত আলোচনা  এগোবে আস্তে আস্তে।  এই আপাত সাধারণ এবং একইসঙ্গে ব্যাপকভাবে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা যুক্ত , সাহিত্যিক টার্মটির ধারণা  পরিষ্কার করতে সহায়তা করতে পারে হয়ত এই  আলোচনা ।   Image Courtesy: Steve Jhonson:pixels.com/free image প্রকৃতপক্ষে, ' মগ্নচৈতন্য  '   সাহিত্যের  জঁর  হিসাবে একেবারেই শুরু করেনি    তার  জীবন !  তবে ?   অবাক করা তথ্য এই  যে - সম্ভবতঃ এটি ছিল   এ

কলকাতার জলছবি / Photos Of Old Kolkata & The Stories

কিছু তথ্য আর কিছু গল্প- এই নিয়েই বোধহয় এক একটি ছবির ইতিহাস লেখা হয়। আমার এই লেখায় স্থান করে নিয়েছে ভিন্ন স্বাদের পাঁচটি ছবি যাদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় খুব কম, তাই মনের মধ্যে লিখে নিতে হয় এর পিছনের ইতিহাস।  আজ আমরা দেখবো কলকাতাকে। না, পটভূমিকা  ঠিক আধুনিক কলকাতা নয়, বরং আজ আমরা একটু ফিরে দেখবো পুরোনো কলকাতাকে। কিছু ছবি, যা পেয়েছি গুগল এর সৌজন্যে; ছবিগুলো ইন্টারনেটে পাওয়া যায়, শুধু লেখাটা আমার। আমি আমার মতো করে চেষ্টা করেছি সেই পুরোনো কলকাতাকে ফিরে দেখতে। এক  একটা ছবিকে কেন্দ্র করে তৈরি করেছি নিজস্ব  কিছু গল্পের বুনোট। কলকাতার ব্যস্ততা- পুরোনো সেই ট্রাম, অপেক্ষমান লোকজন, কোথাও পৌঁছতে চাইছে , ঘরে ফেরার তাড়া-  মিলিয়ে মিশিয়ে কলকাতার একটা ব্যস্ত দিনের ছবি।রাস্তার একপাশে দাঁড়ানো ক্লান্ত গাড়িটাও একটু জিরিয়ে নিচ্ছে। জেগে উঠেছে কলকাতা। তার অবিরাম, নিরলস চলার এক টুকরো ছোঁয়াচ।  হয়তো ব্যস্ত সময় তখন, ব্যস্ত সন্ধ্যা কোনো, আবার হয়তো সারাদিন ই চলে এমন ব্যস্ততা। ব্যস্ত বাজার - খরিদারিতে ব্যস্ত কিছুজন । কিছুজন আবার মন দিয়ে করছে দরাদরি। কিছুজনের চোখ আবার রকমারি জিনিসের গুন্ পরী

বাংলা অণুগল্প- অনুগল্প সিরিজ /Bengali Story

অসীম আর মাধবীলতা অসীম.....এই যে এই দিকে, মাধবীলতা আবার ডাক দিলো,....... হ্যাঁ একদম ঠিক যাচ্ছ,......আমার হাতটা লক্ষ্য করে আস্তে আস্তে এগিয়ে এস, না না ওদিকে নয়.......ওদিকে কাঁটার ঝোপ......গায়ে ফুটে গেলে কেলেঙ্কারির একশেষ.....মাধবীলতা আর ভরসা রাখতে পারলো না, নিজেই এগিয়ে গিয়ে অসীমের হাত নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে হাঁটতে লাগলো। অসীমের জামাকাপড় ভিজে জবজব করছে। একজায়গায় থামলো তারা, বেশ নির্জন, একটা বাড়ির ভিতরে ঢুকে এল। একটু পুরোনো বাড়ি কিন্তু বসবাসের যোগ্য। মাথাটা মুছে নাও, বেশ ভিজেছ, ঠান্ডা ব'সে গেলে জ্বর আসতে পারে....মাধবীলতা হাতের মুঠো ছেড়ে দিয়ে একটা গামছা এগিয়ে দিল। .অসীম গামছাটা নিয়ে সামনে খোলা জানালার বাইরের পুকুরটার দিকে তাকিয়ে রইল একদৃষ্টে। মাধবীলতার শাড়ির আঁচলের একটা অংশ একটু দেখা যাচ্ছে। ওদিকটায় বোধহয় কাঁটাঝোপ ছিল. কালকের মধ্যে দুটো লাশ ই ভেসে উঠবে আশা করা যায় । -------------------------------------------- ছ'য়ে ছটাক : অনুগল্প ১. জানালাটার গ্রিলের মধ্যে দিয়ে নিজের চার হাত পা বের করে দিল সে, এবার শেকল দিয়ে বাঁধার কাজ শুরু হবে। ২.আমার পেনের কালিটা ধীরে ধীরে শেষ