সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কলকাতা থেকে ব্যাঙ্গালোর বিমান যাত্রা, কি হয়েছিল বিমানচালকদের /  Flight from England to Bangalore - What Happened To Aviators 

কলকাতা থেকে ব্যাঙ্গালোর বিমান যাত্রা, কি হয়েছিল বিমানচালকদের /  Flight from England to Bangalore - What Happened To Aviators  


১৯২৯ সাল, দুটি বিমান, দুজন বিমানচালক ইংল্যান্ড থেকে বেঙ্গালুরুতে উড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। ননস্টপ (nonstop) অর্থাৎ একবারও কোথাও না থেমে। কী হয়েছিল সেদিন? পৌঁছতে পেরেছিল কি তারা তাদের গন্তব্যে?





কলকাতা থেকে ব্যাঙ্গালোর বিমান যাত্রা, কি হয়েছিল বিমানচালকদের /  Flight from England to Bangalore - What Happened To Aviators
আর্থার জি জোন্স উইলিয়াম : Image Courtesy: wikimedia commons [public domain]



 আর্থার জি জোন্স-উইলিয়ামস ( Arthur G Jones-Williams) এবং নরম্যান জেনকিন্স (Norman Jenkins)  ক্রানওয়েল থেকে বেঙ্গালুরুতে উড়ে যাবার চেষ্টা করেছিল। কোথাও না থেমে, কোথাও হল্ট (hault) না করে, একদম ননস্টপ ফ্লাইট চালিয়ে বিশ্ব রেকর্ড ভাঙার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সফল হয়নি তারা। 




 জন আলকক ও আর্থার ব্রাউন: ভাইকেরস ভিমি বম্বার বাই প্লেন (vickers vimy bomber biplan), জুন ১৯১৯: Image Credit: wikimedia commons [public domain].


বিশের দশক ছিল পশ্চিম বিশ্বের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সময়। বীরবিক্রমে গগনচুম্বী ইমারত বানাতে ব্যস্ত তখন দেশের সরকার। আশাবাদের বা অপটিমিজমের (optimism ) সময় তখন।  প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা পিছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে বিধ্বস্ত পশ্চিম সমাজ। বিদ্যুত ব্যবস্থার পথ সুগম হতে শুরু করেছে,  ভোগ্যপণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হচ্ছে,  ফলে শান্তিপূর্ণ হচ্ছে সবদিক। অর্জন করছে প্রভূত অর্থনৈতিক উন্নতির স্বাধীনতা। ওয়ান আপম্যান শিপ ( one-upmanship) বলব একে, সবদিক, সবকিছু ছাড়িয়ে তরতর করে এগোচ্ছে পশ্চিমের দেশ। রাজনৈতিক  সমাজনৈতিক কাঠামোয় আসছে আমূল পরিবর্তন। শুরু হয়েছে এক-উত্থানের লড়াই।  একটি সেক্টর বা ক্ষেত্র যা অভূতপূর্ব বৃদ্ধি এবং অগ্রগতির সাক্ষী ছিল তা হল এভিয়েশন সেক্টর  (aviation sector) বা বিমানচালনা সংক্রান্ত ক্ষেত্র ।


কিছু সময়ের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল বিমানচালনার ক্ষেত্রে বা এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রির (aviation industry) ক্ষেত্রে পথিকৃৎ, বা বলা যায় ট্রেন্ডসেটার (trendsetter )। ১৯২৭ সালের মে মাসে, চার্লস লিন্ডবার্গ (Charles Lindbergh) নামে একজন  বছর পঁচিশের এক বিমানচালক প্রভূত প্রশংসা লাভ করে। লিন্ডবার্গ নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ড থেকে প্যারিসের সেন্ট লুইসের  উদ্দেশ্যে এক ইঞ্জিনের  বিমান বা সিঙ্গেল ইঞ্জিন মনোপ্লেন (single-engine monoplane) নিয়ে একাই  উড়ে যায়।  রেকর্ড করেছিল লিন্ডবার্গ,  ৫,৮০০ কিলোমিটার যাত্রায় সময় লেগেছিল সাড়ে তেত্রিশ ঘণ্টা। এটাই ছিল প্রথম সোলো ট্রান্স-আটলান্টিক ফ্লাইট (solo trans-atlantic flight)।


কিন্তু এর দুই সপ্তাহেরও কম সময় পরে লিন্ডবার্গের ননস্টপ দূরত্বের আরও একটি নতুন রেকর্ড তৈরি করে সহকর্মী আমেরিকান ক্ল্যারেন্স চেম্বারলিন (Clarence Chamberlin)।  চেম্বারলিন লং আইল্যান্ড থেকে জার্মানির আইসলেবেন পর্যন্ত 6,294 ৬,২৯৪ কিলোমিটার উড়ে গিয়েছিল। সময় লেগেছিল ৪২ ঘন্টা ৪৫ মিনিট,   একজন মাত্র যাত্রী নিয়ে প্রথম ট্রান্স-আটলান্টিক ফ্লাইট ছিল এটি।  মিলিয়নেয়ার ব্যবসায়ী চার্লস লেভিন (Charles Levine) বেলাঙ্কা মনোপ্লেনে (bellanca monoplane) আরামে বসে  জার্মানির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। 


এবার, আর এক রেকর্ড তৈরি করার পালা। চেম্বারলিনের রেকর্ড গড়ার ১৩ মাস পরে  ইতালিয়ান ক্যাপ্টেন আর্তুরো ফেরারিন (Arturo Ferrarin) এবং মেজর কার্লো ডেলপ্রেট (Carlo Delprete) রোমের মন্টিসেলো ফিল্ড থেকে ব্রাজিলের পূর্ব উপকূলে জেনিপাবুর দিকে উড়ে গিয়েছিল।  ৭,১০৮ কিলোমিটার যাত্রাপথ,  মোট সময় লেগেছিল ৫৮ ঘন্টা ৩৭ মিনিট।


এবার ব্রিটিশদের পালা:


ব্রিটেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির পরে যেখানে এই এভিয়েশন সংক্রান্ত রেকর্ড গড়ার সূচনা হয়।  ১৯১৯ সালের জুনে, জন অ্যালকক (John A) এবং আর্থার ব্রাউন (Arthur Brown)কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড থেকে আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি গালওয়ের পথে যাত্রা করে। বিমানটি ছিল ভিকার্স ভিমি বোম্বার বাইপ্লেন (vickers vimy bomber biplane) যার কিনা যুদ্ধের পরে খোলনলচে বদল করা হয়।  ৩,০৪০ কিলোমিটার গন্তব্য পথ, আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে প্রথম ননস্টপ ফ্লাইট, সময় লেগেছিল ১৫ ঘন্টা ৫৭ মিনিট।  এই প্রাথমিক সাফল্যের পরে, ব্রিটিশরা, যারা ছিল সেই সময়কার বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সাম্রাজ্য, তারা অন্যান্য শিল্পে উন্নত দেশগুলির কাছে বিমান - সংক্রান্ত ক্ষেত্রের প্রতিযোগিতায় , বলা ভালো এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রির রেসে ( aviation industry race) হারাতে শুরু করে।



১৯২০ এর মাঝামাঝি সময়ে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে,  ব্রিটিশদের  ভারতে বিমান নিয়ে উড়ে যাওয়ার মিশন ব্যর্থ হতে থাকে। ঠিক উড়ে যাওয়া নয়, ননস্টপ  উড়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।   প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেওয়া ফরাসি পাইলট  (pilot) পেলেটিয়ার ডি’ওসির (Georges Pelletier D’oisy )প্যারিস থেকে করাচি উড়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা শুনে, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রির একটি অংশের মধ্যে নতুন করে তোড়জোড় শুরু হয়েছিল। কে আগে যাবে সেই নিয়েই তোড়জোড়!


১৯২৭ সালের জুন মাসে, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সিআর কার (CR Carr) এবং পিপি ম্যাকওয়ার্থকে (PP  Mackworth) লিঙ্কনশায়ারের ক্র্যানওয়েল এয়ারোড্রোম থেকে কলকাতা পর্যন্ত একটি হকার-হর্সলে এয়ার ক্রাফটের ( hawker-horseley aircraft) বা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল - দূরত্ব ছিল ৮,০৪৬  কিলোমিটার।  উভয় পাইলটেরিই যুদ্ধে যোগদানের  অভিজ্ঞতা ছিল।  কার নিউজিল্যান্ড থেকে যুদ্ধের জন্য এসেছিল, উত্তর রাশিয়ার উপর দিয়ে ছিল তার উড়াল যাত্রা। অ্যাংলো-আইরিশ অভিযাত্রী আর্নেস্ট শ্যাকলটনের (Enest Shackleton) নেতৃত্বে একটি  দক্ষিণ মেরু অভিযানেও অংশ নিয়েছিল কার।


ম্যাকওয়ার্থ,  যুদ্ধের সময় বোমারু বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এক বিমান চালক, ১৯২৬ সালে কায়রো-কেপ-কায়রো-ইংল্যান্ড ভ্রমণে অংশগ্রহণ করে। এই বহুল আলোচিত মিশনটিও ব্যর্থ হয়েছিল, যদিও কারণগুলি অস্পষ্ট এখনও।  ক্র্যানওয়েল-কলকাতা ফ্লাইটের  পরিকল্পনা সম্পর্কে যে সংবাদপত্রগুলি রিপোর্ট পরিবেশন করেছিল তারা ঠিক কতবার এই উড়ান দেওয়ার প্রচেষ্টা করা হয়েছে, সে সম্পর্কে কোনও তথ্য প্রদান করেনি।


নতুন যাত্রা: 


যারা লিন্ডবার্গ, চেম্বারলিন, ফেরারিন এবং ডেলপেট্রের (Li ndbergh, Chamberlin, Ferrarin, D) সাফল্যের রিপোর্ট যখন জমা  পড়েছিল তখন তাদের মধ্যে একজন তরুণ  পাইলটের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল,  যুদ্ধের সময় নিজের বিমান চালানোর  দক্ষতার জন্য সুনাম অর্জন করেছিল সেই বিমান চালক আর্থার জি জোন্স-উইলিয়ামস (Arthur G Jones-Williams)।  কিশোর বয়স থেকেই বোমারু বিমান চালানোর দক্ষতা ছিল আর্থারের,  যুদ্ধে বেশ কয়েকটি বায়বীয় বিজয়ের পর তার দক্ষতার সম্পর্কে  আর কোনো সন্দেহ থাকে নি। 


১৯২৯ সালে, ব্রিটিশ বিমান মন্ত্রক জোনস-উইলিয়ামস (Jones-Williams) এবং ফ্লাইট-লেফটেন্যান্ট নরম্যান জেনকিন্সকে (Norman Jenkins) আমন্ত্রণ জানায়, যারা নিজেরা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সবচেয়ে দুর্দান্ত কর্মকর্তাদের মতোই,  আদেশের অপেক্ষায় থাকা দূর্ধর্ষ এক একজন বিমান চালক। নিযুক্ত হয় তারা, একটি বিশেষভাবে তৈরি বিমানকে উড়ানোর চেষ্টা করার জন্য।  লক্ষ্য অবিরাম দূরত্বের বিশ্ব রেকর্ড, মানে বিমান নিয়ে ননস্টপ দূরত্ব অতিক্রম করার রেকর্ড।  রয়াল এয়ার ফোর্স ক্র্যানওয়েল থেকে কেপ টাউনে উড়ে যাওয়ার ভাবনাটি বিবেচনায় রেখেছিল,  কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারতকে বেছে নেয় কারণ তারা আফ্রিকার কিছু অংশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত ছিল না।




লং রেঞ্জ মনোপ্লেন (long-range monoplane): Image Courtesy: wikimedia commons [public domain].



ফেয়ার-নেপিয়ার মনোপ্লেন ( fairey-napier monoplane),  যা এই যাত্রার জন্য নির্মিত হয়েছিল, আর যার ওজন ছিল ৭ ইম্পেরিয়াল টন এবং এটি একটি সিঙ্গেল ৫৩০-হর্সপাওয়ার ইঞ্জিন এর সাহায্যে গন্তব্যে উড়ে গেছিল।  ভারতে আসার জন্য, পেট্রোল লেগেছিল ৩,৭৮৫ লিটার।   এর ককপিটটি একটি হুটার (hooter) দিয়ে সাজানো ছিল যা পাইলটের কানের কাছে আওয়াজ করতে থাকবে, যাতে, যদি বিমানটি সোজা পথ থেকে বিচ্যুত হয় বা হঠাৎ বেশী উচ্চতা থেকে কম উচ্চতায় নেমে যায়, তাহলে পাইলটকে জাগিয়ে রাখতে পারে।  একটি বিশেষ ৩.২ কিলোমিটার রানওয়ে ক্র্যানওয়েলে তৈরি করা হয়েছিল যাতে প্লেনটি তার বিশাল পেট্রোল ট্যাঙ্কার নিয়ে উড়ে যেতে পারে।


ইংল্যান্ড থেকে ভারতের আকাশ পথে যে সব জায়গার উপর দিয়ে প্লেন টি উড়ে গেছিল সেগুলি হল: হল্যান্ড, নুরেমবার্গ, উইনার নিউস্টাড্ট (অস্ট্রিয়া), জেন্টা (হাঙ্গেরি), প্লেভেন (বুলগেরিয়া), কনস্টান্টিনোপল, বাগদাদ, জাস্ক (পার্সিয়া), করাচি, সোলাপুর, বেলারি এবং বেঙ্গালুরু।


অ্যাডভেঞ্চার- ‘greatest peacetime adventure’


২৪ শে এপ্রিল, ১৯২৯ সাল, অনেক ধুমধামের করে প্লেনটি ক্র্যানওয়েল থেকে রওনা দেয়, সঙ্গে ছিল মিডিয়ার মনোযোগ।  মিডিয়া প্রতিটা মুহুর্তের খবর পাওয়ার জন্য উৎসাহ ছিল। এমন কম উচ্চতায় উড়ছিল প্লেনটি যা যেকোনো মানুষ একটু ভালো করে দেখলেই তা নজর করতে পারত। 


আন্তর্জাতিক মিডিয়া খবর করল, “greatest peacetime adventure” শিরোনামে  দেখানো হল এই অ্যাডভেঞ্চারকে।  যাত্রা শুরু হয়েছিল মসৃণ ভাবেই।   দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে যাওয়ার সময় বিমানটিকে ইউরোপীয় শহরগুলিতে দেখা গেছে।  ২৭ ঘন্টার মধ্যে, বিমানটি বাগদাদের আকাশসীমায় পৌঁছেছে, অতিক্রম করেছে ৪,১৮৪  কিলোমিটার দূরত্ব। এর ঠিক চার ঘন্টা পরে, বসরা অতিক্রম করে বিমানটি এবং পারস্যের বুশেহরের উপরেও দেখা যায় একে, কারণ ভারত অভিমুখে যাত্রা অব্যাহত ছিল বিমানটির।


ক্রানওয়েল থেকে টেক অফ (take off)  ঠিক ৪৮ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট পর করাচির আকাশে বিমানটি আবার নজরে আসে। উল্লসিত জনতা হাতও নাকি নেড়েছিল।  বেঙ্গালুরু, বিমানটির চূড়ান্ত গন্তব্য, এখনও  ১,৮৮২ কিলোমিটার দূরে ছিল।  কিন্তু শহর পেরিয়ে যাওয়ার দু'  ঘণ্টা পরে বিমানটি পিছন ফিরে গিয়ে করাচিতে অবতরণ করে।  চূড়ান্ত দূরত্ব যা পূরণ করবার কথা -  ৬,৬৪২ কিলোমিটার, যা ছিল ফেরারিন এবং ডেলপ্রেটের সেট করা ননস্টপ দূরত্বের রেকর্ড থেকে মোট ৪৬২ কিলোমিটার কম।  টাইম ম্যাগাজিন তার 6 মে, ৬ই মে, ১৯২৯ সালের  রিপোর্ট করেছিল, “head winds had eaten up its gasoline on the last half of the journey,” ।


দেখা গেল বিমানে ওয়্যারলেস সেট (wireless set) নেই। আর এটার  অভাবই  ব্রিটিশ যুগল বিশ্ব রেকর্ড গড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে ।  ২৭ শে এপ্রিল, ১৯২৯-এর নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের একটি নিবন্ধে বিমানটির বেঙ্গালুরুতে  পৌঁছাতে না পারার পেছনের কারণগুলি প্রকাশ করে -  “analysis of the flight by technical men discloses two interesting facts,” আরও লেখা হয়েছিল, “first, at least 660 miles (1,062 kilometres) would have been added to the 1,520 miles (2,446 kilometres) flown in the final 22 hours of the flight, if the (british) air ministry had been able to tell the pilots that a 30-mile-an-hour (48-kilometre-an-hour) wind was blowing in their favour at lower levels.”।


পাইলটদের, যারা বাগদাদ থেকে ১০,০০০  ফুট উচ্চতায় প্রচণ্ড ঝোরো হওয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করছিল, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়,  সংযোগ করা যায়নি অনেকক্ষণ, নিচে নেমে আসতে বলা হয়েছিল তাদের, নিবন্ধে লেখা হয়েছে, “take advantage of a following wind which would have put the records easily within their reach,”।


রিপোর্টে আরও যোগ করা হল, “second, it was revealed that their 530-horsepower engine lifted no less than 30 pounds per each horsepower developed, which is said to be a record, and as the monoplane weighing, fully laden, 16,000 pounds, climbed at the outset to 2,500 feet, it is estimated that at least 1,000 more pounds of petrol could have been carried.”।


বিশ্বরেকর্ড না ভাঙা সত্ত্বেও এই বিমান যাত্রাকে ব্রিটিশ এভিয়েশন এর ক্ষেত্রে এক বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হয় -  বিগ অ্যাচিভমেন্ট-  পরবর্তীতে বেঙ্গালুরুতে পৌঁছোয় বিমানটি।   করাচি পৌঁছতে বিমানটির সাড়ে ৪৮ ঘণ্টার কিছু বেশি সময় লেগেছিল।  তুলনা করতে পারা যায় কিছুটা এইভাবে - ব্রিটেন থেকে এয়ার মেইল ​​সার্ভিস অন্য শহরে পৌঁছাতে  সাড়ে সাত দিন সময় লাগত।  এই বিমানের যাত্রাপথকে ধরে তৈরি হয় এয়ার মেল পাঠানোর রাস্তা। এই নির্দিষ্ট পথেই শুরু হয় ভারতে এয়ার মেল (air mail) চলাচলের ব্যবস্থা।  বিমানে মাত্র দুই দিনের মধ্যে ব্রিটেন থেকে ভারতে এবং প্রায় পাঁচ দিনের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর জন্য এয়ার মেইলের পথ তৈরি হয়।


রয়্যাল এয়ার ফোর্স ( royal air force) এবং ব্রিটিশ সরকার  অত্যন্ত আনন্দের সাথে এই সাফল্য উদযাপন করেছিল।  স্যামুয়েল হোয়ারে (samuel hoare),  সেই সময়কার দায়িত্ত্ব প্রাপ্ত বিমান মন্ত্রী যাকে তৎকালীন  ভারত সরকারের সেক্রেটারি অফ স্টেট (the secretary of state) এবং সেইসাথে গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া অ্যাক্ট, ১৯৩৫ (the government of india act, 1935) এর লেখক, সংশ্লিষ্ট প্রেসকে  উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন,  “great day in the history of the force”.। 


জোন্স-উইলিয়ামস এবং জেনকিন্স যুগল বিশ্ব রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন ছেড়ে দেয়নি।  ক্রানওয়েল থেকে বেঙ্গালুরুতে উড়ান দেওয়ার সাত মাস পর, অভিজ্ঞ বিমানচালকেরা আবারও ব্রিটেন থেকে কেপ টাউনে যাত্রা করে, সেই ননস্টপ ফ্লাইং করে দূরত্বের নতুন রেকর্ড গড়ার চেষ্টা করা।  কিন্তু এই রেকর্ড গড়ার চেষ্টা এক ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।  তারা মারা যায়।  একটি কুয়াশাচ্ছন্ন ডিসেম্বরের ভোরে, দুর্দান্ত লং রেঞ্জের (long-range) মনোপ্লেন ভেঙে পড়ে তিউনিসিয়ার জাঘোয়ানের কাছে পাহাড়ী ভূখণ্ডে।  দুজন বিমানচালকই ছিল অল্পবয়সী, ৩০ ছুঁই ছুঁই বয়সে জীবন থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। এমন একটা এডভেঞ্চারের জন্য, সাহসিকতার জন্য এবং ব্রিটেন ও ভারতের মধ্যে বিমান যোগাযোগের  নতুন পথ দেখানোর জন্য এই দুই বৈমানিকের নাম ইতিহাসে লেখা থাকবে ।









মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কাকে বলে স্ট্রিম অফ কনসাসনেস বা মগ্নচৈতন্য / What is Stream of Consciousness?

কাকে বলে স্ট্রিম অফ কনসাসনেস ? সাহিত্য ধারায় এটি এক রীতি, বলতে গেলে লেখনীর এক ধরণ। সাহিত্যের আলোচনায়  কিংবা সমালোচনায় 'স্ট্রিম অফ কনসাসনেস'- ‘Stream of Consciousness’  বা মগ্নচৈতন্য শুধুমাত্র এক শব্দ নয়, এ এক অনন্য, এক স্বতন্ত্র জঁর  ।  মগ্নচৈতন্যের   স্রোত সাহিত্যসৃষ্টির এক অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ন ধারা,  যা কিনা  বিংশ শতাব্দীর কিছু বিখ্যাত লেখক   নিযুক্ত এক স্বতন্ত্র লেখন রীতি। নিজেদের লেখনীতে কিছু ঘটনা পরম্পরাকে  বর্ণনা করতে ব্যবহার করেছিলেন তারা ।  কিন্তু '  মগ্নচৈতন্য '  কী?  কেনই বা  এটি একটি 'ধারা' বা ' জঁর' ?  কিছু  পরিচিতি দিলাম বটে শুরুতে কয়েকটি শব্দকে আশ্রয় করে, তবে  বিস্তারিত আলোচনা  এগোবে আস্তে আস্তে।  এই আপাত সাধারণ এবং একইসঙ্গে ব্যাপকভাবে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা যুক্ত , সাহিত্যিক টার্মটির ধারণা  পরিষ্কার করতে সহায়তা করতে পারে হয়ত এই  আলোচনা ।   Image Courtesy: Steve Jhonson:pixels.com/free image প্রকৃতপক্ষে, ' মগ্নচৈতন্য  '   সাহিত্যের  জঁর  হিসাবে একেবারেই শুরু করেনি    তার  জীবন !  তবে ?   অবাক করা তথ্য এই  যে - সম্ভবতঃ এটি ছিল   এ

একটি প্রেমের গল্প : অমৃতা প্রীতম এবং সাহির লুধিয়ানভি / The love story of Amrita Pritam and Sahir Ludhianvi

প্রেমের গল্প। প্রেম ভাঙার গল্প। পাত্র-পাত্রী সাহির লুধিয়ানভি এবং অমৃতা প্রীতম। দিকপাল দুই সাহিত্যিক। কেমন ছিল সেই সম্পর্ক ? ''আমি তো জানতাম সাহির, তোমার কোনোদিনই আমার প্রতি প্রতিশ্রুতি রক্ষার কোনো দায় ছিল না । কি যেন বলে আজকাল ! ও হ্যাঁ , কমিটমেন্ট ফোবিয়া।  ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি রাখতে পারবে কি না সেই দ্বিধাতেই তো রয়ে গেলে। কেন  যেন মনে হয় আমার প্রতি তোমার ভালোবাসা  সেই গভীরতর  অতলান্ত  স্পর্শ করে নি কোনোদিন। ছুঁয়ে দেখেনি সেই ভালোবাসার তীব্র টানকে। আচ্ছা সত্যি করে বলো তো, তুমি কি সত্যি আমাকে ভালোবেসেছ  ? যতটা আমি তোমাকে বেসেছি।  "ম্যায়নে টুট  কে প্যায়ার কিয়া তুম সে / ক্যায়া  তুমনে ভী উতনা কিয়া মুঝ সে?'' অমৃতা প্রীতম এবং সাহির লুধিয়ানভি : Image Courtesy : Indian Express  ' ''মোহাব্বত কি পরখ  কা  ইয়েহি  তো রাস্তা  হ্যায় / তেরি  তালাশ মে নিকলু, তুঝে  না  পায়ু  ম্যায় '' । অমৃতা ভালোবাসা খুঁজেছেন, সেই আকুল করা ভালোবাসা,  হৃদয় তন্ত্রীতে সেই তীব্র ঝড় তোলা ভালোবাসা তাকেই তো খুঁজেছেন অমৃতা। পেয়েছেন কি ? খুঁজবো আমরা।  উপরের লাইনদুটি মজহা

মেট গালা- কি এই মেট গালা/ What Is Met Gala

  নিউ ইয়র্কের এই ফ্যাশন ইভেন্ট মেট গালা - যা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে... ফ্যাশন দুনিয়াতে ঝড় উঠেছিল ৬ই মে, ২০১৯ এ , কোন সেলিব্রেটি কি পরছেন আর সেটি কিভাবেই বা ক্যারি করছেন, কার পোশাক হয়ে উঠছে যথার্থ ''ফ্যাশান স্টেটমেন্ট'', আর কেই বা পরছেন ''আউট অফ ফ্যাশান'' জামাকাপড়।  আজ কি তাহলে ফ্যাশন শো এর গল্প নিয়ে বসলাম? আজকের গল্পের নাম ''মেট গালা'' ( Met Gala)   ইভেন্ট।  মেট গালা, যেটি আসলে কস্টিউম ইনস্টিটিউট গালা  (Costume Institute Gala) আর যেটা ''মেট বল'' (Met Ball) নামেও পরিচিত।  এবার একটু বিশদে বলি এই  ''মেট গালা'' আসলে কি? এটা আসলে একটা ''ফান্ডরাইসিং ইভেন্ট'' ( Fundraising Event) - এবার প্রশ্ন হলো কি হয় এই ইভেন্টে? উত্তর, নিউ ইয়র্কের মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অফ আর্টস (Metropolitan Museum  of Arts) এর  কস্টিউম ইনস্টিটিউট  (Costume Institute)  জন্য একটা আর্থিক তহবিল তৈরি করা হয়। আর এটা হয়ে থাকে প্রতি বছরই। এখানে যোগ দেবার খরচটিও চমকপ্রদ, তিরিশ হাজার মার্কিন ডলার এই বছরে প্রতিটি সিটের জন্য নেওয়া হয়েছে।