Skip to main content

অন্তহীন কথা - বাংলা উপন্যাস/ Bengali Novel

অতীনের কথা 


অচেতন, সে এক অলীক অবচেতন, রহস্য আর মেঘের মত রহস্য দিয়ে ডুবিয়ে রাখা অচেতন । সত্যের  তীব্রতা বড় গাঢ় হতে শুরু করেছে। Sweet truth, সত্যের নির্দয়তা, প্রখরত্ত্বের, প্রবল বেগের কামনা ধ্বনিত হচ্ছে। Metaphore এক ধারণা তৈরি করে,  নিষ্ঠুর ধারণা, তীব্র ধারণা,  অকথ্য সত্য, কিন্তু দূরত্ব বাড়তে থাকছে, ভেসে আসছে  কোনো শব্দ, দূরত্বেরও কি কোনো  অনুভূতি তৈরি হয়?  করুণাময় অনুভূতি? তৈরি করতে পারে করুণাময় অনুভূতি? কোনো না বলা সত্যি কথা, যা বলা যায় না, যা বলতে গেলে পুরো ভাবনাটা তালগোল পাকিয়ে যেতে থাকে?unspeakable truth, নিজেদের মধ্যে প্রোথিত করে ফেলে poetic radiance? একটা, একটা  work of art ?

নদী আসলে একটা রহস্য, তার পরতে পরতে লুকিয়ে রয়েছে সম্পর্কের  একটি রহস্য,  যা আমাদের তাদের কাছে টেনে নিয়ে যায়, কারণ তারা লুকানো জায়গা থেকে উঠে আসে এবং এমন একটা আশ্চর্য্য রুটে ভ্রমণ করে।  যা সবসময় একটা কালে স্থির  হয়ে থাকে।  না যেখানে আজ না সেখানে কাল, এই সময়ের মাপ যেন কেউ কোনোদিন খুঁজে পায় নি। থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে।  

Life, Loss আর knowledge সম্পর্কে এক অত্যাশ্চর্য ধ্যানে বৃত্ত সম্পূর্ন করতে হয়।  ওউস নদীর উৎস থেকে সমুদ্রে যাওয়ার পর নদীগুলি - ওউজ নদী, যেখানে ভার্জিনিয়া উলফ জীবনের রহস্য থেকে সরে গিয়েছিলেন। অতীত কেবল তখনই ফিরে আসে যখন বহমান সময়কাল এত মসৃণভাবে চলতে থাকে যে প্রায় স্লাইডিংয়ের মতো হয়ে দাঁড়ায়।  গভীর নদীর উপরিভাগ যেমন। নদী যেন  সভ্যতার ক্রুশবিদ্ধ যীশু, এক একটা সময়কালে বয়ে গিয়ে সেই সময়ের স্থিরতা নির্দেশ করে। জলের শক্তি আর তার অপার রহস্যের সাথে স্পন্দিত। সাপের মতো এঁকা বেঁকা পথ তার।  নির্ভুলভাবে এনকোড করা, সর্বশ্রেষ্ঠ কবিতায় যেমন থাকে বিরামহীন প্রবাহ।

সময় একটি নদী যা আমাকে বয়ে নিয়ে যায়,  আমি নদী হয়ে উঠি।

প্রত্যেক নদীর নিজস্ব একটা গল্প থাকে। আর কিছু গল্প শুরু হয় এইভাবে - একটি নদীর তীরে, একটি ছোট্ট মেয়ে ফুল তোলার সাথে -  এবং তার বুড়ি ঠাকুমাকে সেলাই করতে দেখে।  সে জিজ্ঞাসা করে, ঠাকুমা উত্তর দেয়, নদী তীরের গাছের ফুলগুলি যেন নিজেরাই একটা করে ছোট নদী। একটা করে সুতো। মানুষ এবং স্থান, অতীত এবং বর্তমান সংযোগ করে। আর এক একটা করে একসাথে গল্প সেলাই করে।নদী বিবরণ দেয়  এনসাইক্লোপিডিয়া - ভূতত্ত্ব এবং ইতিহাস, বিখ্যাত নদী সম্পর্কে কৌতূহলী পরিসংখ্যানের মধ্যে বুনন করে, কিন্তু সত্য এবং অনুভূতি কবিতায় জড়িয়ে থাকে নদী।

একটি নদী যেন একটা journey। একটা বুদবুদের মতো বসন্ত, হিমবাহের ফাঁক গলে ধোঁয়া ওঠা স্বপ্নদের মতো, একটি বগি জলাভূমি, একটি নীরব হয়ে থাকা হ্রদ - নদী যে কোনও জায়গায় শুরু হতে পারে। 

নদী যেন নিজেই অনেক জায়গায় ভ্রমণ করে: গ্রাম, শহর, ঘন বন, পর্বত, উপত্যকা- এই সবই ভ্রমণ করে ধীরে ধীরে। গভীর উত্তাপ, তীব্র ঠাণ্ডা নদীকে ছুঁয়ে দিয়ে যায়। ঝাঁকুনি, খুব জোরে নাড়া খাওয়া, না ঠিক নাড়া খাওয়া নয় - একটা জোরদার ধাক্কা, বিরাট উঁচু থেকে লাফ দেয় নদী,  জলপ্রপাত হিসাবে নিচে পরতে থাকে বাকি জীবনটা।  এটি জলাভূমির মধ্য দিয়ে অলসভাবে ডুবে যায়।  হঠাৎ, এটি মোচড়, তারপর সর্পিলতা।  মাটির নীচে দুম করে ঢুকে পরে,  মাটির নিচে লতানো পাতা হয়ে যায় নদী।  পাহাড়ের বাইরে গিরিখাত খোদাই করে, শিলাকে পলি থেকে কমিয়ে দিতে থাকে। আমরা নদীকে বাড়ি হিসাবে দেখি, নীল নদ আফ্রিকা জুড়ে তার ৪,১০০ মাইল পথ ধরে একদিনে কত মানুষের জীবন ছুঁয়েছে, বা ইউরোপের দশটি দেশ জুড়ে দানিউব - কল্পনা করা যায় কি?

নদীকে আবাসস্থল হিসাবে দেখে, হিপ্পো এবং হেরন, ড্রাগনফ্লাই এবং প্লাটিপাসের মতো বিভিন্ন প্রাণীরা। 

আমরা নদীকে একটি আবাসস্থল হিসাবে দেখি, হিপ্পো এবং হেরন, ড্রাগনফ্লাই এবং প্ল্যাটিপাসের মতো বিভিন্ন প্রাণীর কাছে। আমরা নদীকে একটি মিলনস্থল, একটি মিউজ, দেশ ও মানুষের নাম-উৎস, একটি সংবেদনশীল প্রাকৃতিক দৃশ্যের অবতারণা, গভীর সময়ের দূত হিসেবে দেখি।

পৌরাণিক কাহিনী ও অস্তিত্বের নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহের একটি বৃহত্তর প্রতিফলনে রূপান্তরিত হয় নদী, যা প্রাচীন গ্রিক মিথ অফ ওশেনাসের সাথে যুক্ত - পৃথিবীকে ঘিরে থাকা মহান নদী, যেখান থেকে মহাসাগর শব্দটি এসেছে - পৃথিবীর বিশাল, আন্তসংযুক্ত, প্রাচীন ব্যবস্থার পরিবেশগত বাস্তবতার সাথে  বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে জল সঞ্চালিত হয়। স্পন্দিত হয় জীবজগতের মাধ্যমে।নদী কিসের পরিপূরক? মন্ত্রমুগ্ধ জীবনের ?








ব্রততীর কথা 


বয়ে চলা নদীর গভীরে পা ডুবিয়ে একটা একটা করে অতীত খুঁড়ে চলেছি আমি। অস্তিত্বের প্রবাহ বরাবরের মত সত্য । অনুভূতি দিয়ে একটি ছবি এঁকে চলেছি।প্রাকৃতিক দৃশ্য।



(চলবে)

Comments

Popular posts from this blog

মেট গালা- কি এই মেট গালা/ What Is Met Gala

  নিউ ইয়র্কের এই ফ্যাশন ইভেন্ট মেট গালা - যা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে... ফ্যাশন দুনিয়াতে ঝড় উঠেছিল ৬ই মে, ২০১৯ এ , কোন সেলিব্রেটি কি পরছেন আর সেটি কিভাবেই বা ক্যারি করছেন, কার পোশাক হয়ে উঠছে যথার্থ ''ফ্যাশান স্টেটমেন্ট'', আর কেই বা পরছেন ''আউট অফ ফ্যাশান'' জামাকাপড়।  আজ কি তাহলে ফ্যাশন শো এর গল্প নিয়ে বসলাম? আজকের গল্পের নাম ''মেট গালা'' ( Met Gala)   ইভেন্ট।  মেট গালা, যেটি আসলে কস্টিউম ইনস্টিটিউট গালা  (Costume Institute Gala) আর যেটা ''মেট বল'' (Met Ball) নামেও পরিচিত।  এবার একটু বিশদে বলি এই  ''মেট গালা'' আসলে কি? এটা আসলে একটা ''ফান্ডরাইসিং ইভেন্ট'' ( Fundraising Event) - এবার প্রশ্ন হলো কি হয় এই ইভেন্টে? উত্তর, নিউ ইয়র্কের মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অফ আর্টস (Metropolitan Museum  of Arts) এর  কস্টিউম ইনস্টিটিউট  (Costume Institute)  জন্য একটা আর্থিক তহবিল তৈরি করা হয়। আর এটা হয়ে থাকে প্রতি বছরই। এখানে যোগ দেবার খরচটিও চমকপ্রদ, তিরিশ হাজার মার্কিন ডলার এই বছরে প্রতিটি সিটের জন্য নেওয়া হয়েছে।...

কাকে বলে স্ট্রিম অফ কনসাসনেস বা মগ্নচৈতন্য / What is Stream of Consciousness?

কাকে বলে স্ট্রিম অফ কনসাসনেস ? সাহিত্য ধারায় এটি এক রীতি, বলতে গেলে লেখনীর এক ধরণ। সাহিত্যের আলোচনায়  কিংবা সমালোচনায় 'স্ট্রিম অফ কনসাসনেস'- ‘Stream of Consciousness’  বা মগ্নচৈতন্য শুধুমাত্র এক শব্দ নয়, এ এক অনন্য, এক স্বতন্ত্র জঁর  ।  মগ্নচৈতন্যের   স্রোত সাহিত্যসৃষ্টির এক অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ন ধারা,  যা কিনা  বিংশ শতাব্দীর কিছু বিখ্যাত লেখক   নিযুক্ত এক স্বতন্ত্র লেখন রীতি। নিজেদের লেখনীতে কিছু ঘটনা পরম্পরাকে  বর্ণনা করতে ব্যবহার করেছিলেন তারা ।  কিন্তু '  মগ্নচৈতন্য '  কী?  কেনই বা  এটি একটি 'ধারা' বা ' জঁর' ?  কিছু  পরিচিতি দিলাম বটে শুরুতে কয়েকটি শব্দকে আশ্রয় করে, তবে  বিস্তারিত আলোচনা  এগোবে আস্তে আস্তে।  এই আপাত সাধারণ এবং একইসঙ্গে ব্যাপকভাবে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা যুক্ত , সাহিত্যিক টার্মটির ধারণা  পরিষ্কার করতে সহায়তা করতে পারে হয়ত এই  আলোচনা ।   Image Courtesy: Steve Jhonson:pixels.com/free image প্রকৃতপক্ষে...

কলকাতার জলছবি / Photos Of Old Kolkata & The Stories

কিছু তথ্য আর কিছু গল্প- এই নিয়েই বোধহয় এক একটি ছবির ইতিহাস লেখা হয়। আমার এই লেখায় স্থান করে নিয়েছে ভিন্ন স্বাদের পাঁচটি ছবি যাদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় খুব কম, তাই মনের মধ্যে লিখে নিতে হয় এর পিছনের ইতিহাস।  আজ আমরা দেখবো কলকাতাকে। না, পটভূমিকা  ঠিক আধুনিক কলকাতা নয়, বরং আজ আমরা একটু ফিরে দেখবো পুরোনো কলকাতাকে। কিছু ছবি, যা পেয়েছি গুগল এর সৌজন্যে; ছবিগুলো ইন্টারনেটে পাওয়া যায়, শুধু লেখাটা আমার। আমি আমার মতো করে চেষ্টা করেছি সেই পুরোনো কলকাতাকে ফিরে দেখতে। এক  একটা ছবিকে কেন্দ্র করে তৈরি করেছি নিজস্ব  কিছু গল্পের বুনোট। কলকাতার ব্যস্ততা- পুরোনো সেই ট্রাম, অপেক্ষমান লোকজন, কোথাও পৌঁছতে চাইছে , ঘরে ফেরার তাড়া-  মিলিয়ে মিশিয়ে কলকাতার একটা ব্যস্ত দিনের ছবি।রাস্তার একপাশে দাঁড়ানো ক্লান্ত গাড়িটাও একটু জিরিয়ে নিচ্ছে। জেগে উঠেছে কলকাতা। তার অবিরাম, নিরলস চলার এক টুকরো ছোঁয়াচ।  হয়তো ব্যস্ত সময় তখন, ব্যস্ত সন্ধ্যা কোনো, আবার হয়তো সারাদিন ই চলে এমন ব্যস্ততা। ব্যস্ত বাজার - খরিদারিতে ব্যস্ত কিছুজন । কিছুজন আবার মন দিয়ে করছে দরাদর...