সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ডায়েরির পাতা থেকে - ১ / Personal Memoir - Part 1

একটা সময় ডাইরি লিখতাম, এখন আর লিখি না। তেমন হয়তো কিছুই না, কিছু হিজিবিজি মনের ভিতরে যা কিছু ঘটে যায় তাই লিখে রেখে দিতাম। অনেকদিন খাতা বন্দি হয়ে পরে ছিল। আজ সেগুলি লিখে দিচ্ছি নিজের ব্লগ-খাতায়।

নিজের কাছে নিজের কিছু বলার থাকে, আর সেটা আমি বলতাম ডায়েরিতে। একটা সময়  লিখে রাখতাম নিয়মিত , এখন আর লিখি  না। তেমন হয়তো কিছুই না, কিছু হিজিবিজি যা মনের ভিতরে যা কিছু ঘটে যায় তাই লিখে রেখে দিতাম। খাতা বন্দি হয়ে পরে ছিল। কি মনে হল, ভাবলাম ভাবনার কথাগুলি একটু বলেই ফেলি, হয়তো অদ্ভুত লাগবে, তবুও , কি মনে হল। আমার  ডায়েরির  টুকরো টাকরা কোলাজ লেখা গুলো তুলে দিলাম ব্লগ-খাতায়। সবই  ছড়ানো ভাবনা যা একত্রিত করে লিখে দিলাম।  ডায়েরির পাতা অনেকদিনই বন্ধ , তখনকার  চিন্তা-টুকরো গুলো ছড়িয়ে দিলাম। ধারাবাহিক ভাবে লিখবো এটা।

০১.০২.২০১৩

জগতে বহমান কাল পথিকের মতো চলতে থাকে।  দাঁড়াবার  ফুরসৎ টুকুও যেন গোপন কুঠুরিতে তুলে রেখে এসেছে। দিনবদলের পর রাত  বদল ঘটতে থাকে।  প্রতিদিনকার খোঁচা খাওয়া জীবনটা কে নিয়ে কি  মাঝে বুঝে উঠতে পারি না। মাঝ- দরিয়ার নৌকো নিয়ে চললে যেমন জীবন কে জলছবি বলে মনে হয়, তেমনই দিনাতিপাতের শব্দগুচ্ছকে কুড়িয়ে নিয়ে চলতে হয়। এক মায়াময় ঘূর্ণিঝড় যেন জীবনটাকে মাঝ বরাবর রেখে চারিদিকের একটা ছবি টেনে দেয়। সব অন্তরালে চলে যেতে আরম্ভ করে। ভিড় করে আসা স্মৃতিরা আস্তে আস্তে চলে যায়, হঠাৎ অন্তর্হিত হয়ে যায় তারা। নিরন্তর ধুলোখেলা চলতেই থাকে। মরুভূমিতে যখন  ঝড় ওঠে, বালিয়াড়ির ঝড় - দুহাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে ইচ্ছে হয় মাঝে ,মাঝে। এক অস্থিরতম বিন্দু যেন শান্ত সমাহিত হয়ে যেতে থাকে সেই সময়টা। মনে এমন ভাব যেন আবহমান কাল থেকে এই ঝড়ের দাপট চলে আসছে। ছোট্ট বালুকণা চোখের ভিতর ঢুকে যাচ্ছে, লুকোনোর ভালো জায়গা বটে ! রেখে দি ওদের, যেতে দি না।আমি কি কোনো নির্দিষ্ট পথ খুঁজে চলেছি? নিজের মনের প্রশ্ন কে ছড়িয়ে দি, যেতে দি ওই ঘূর্ণিঝড়ের  অস্থিররত পথ কে অনুসরণ করতে বলি। আমাদের সবার জীবন একটা কাছের বলয়ের মধ্যে আটকে আছে। আবদ্ধ জীবন। ছড়িয়ে দিতে কি ইচ্ছে হয় না এই টুকরো জীবনের অংশ? জীবন হয়তো ছড়িয়ে গেছে আলোতে,  বাতাসে আর আকাশ পথেও তো পারি জমায়। তাকে আমি খুঁজে চলেছি, খুঁজেই চলেছি। পথ খুঁজে চলেছি আমি, দৃষ্টি কি খুঁজছি  না? নিশ্চই খুঁজছি ।  নিজের footnote এ নিজের ক্ষত-বিক্ষত জীবনের একটা আবরণ লিখে রাখি। একটা নেই হয়ে যাওয়া জীবন।
''কালিকলম মন, লেখে তিনজন'' - খুদকুঁড়োর মতো জীবনবৃত্ত তাতে এই তিনজনের অস্তিত্ত্ব  নিরন্তর চলতে থাকে। ডায়েরির প্রথম পাতায় আঁচড়ানোর মতো কিছু উচ্ছিষ্ট লেখনিবৃত্ত তৈরি হতে থাকে। তৈরি হতে থাকে নবজাতকের প্রত্যাশার। '' লেখে তিনজন''- এইবার এই তিনজন তৈরি হতে থাকে আমার মনের মধ্যে- ' আকাশ, বাতাস আর মাটি। '  

০২.০২.২০১৩

It's magical, living a life, it's magical experience. তৃণান্তসুখ অনুভূতির মত শুধু বোধ কাজ করে। বৃষ্টি ছড়ানো কত কথা শুধু,  সৃষ্টির দুর্নিবার আকর্ষণের ছায়ার মতো শুধু বড় হতে শেখে। অদ্ভুত সৃষ্টিছাড়া অদ্ভুত। সৃষ্টিশীল যা দেখি, যা শিখি মাঝে মাঝে লিখি...চিঠিপত্রের পুরোনো  আজকাল হারিয়ে গেছে। মনে হচ্ছে depression উঠছি। প্রিয় রঙের প্রেমে পরতে ইচ্ছে করছে। দৃষ্টি নিক্ষেপ। পথিকৃৎ। তাহলে এবার কি চরৈবেতি বলার সময় চলে এসেছে ? প্রশ্নচিহ্ন জাগে বৈকি ! তার সঙ্গে জেগে থাকে প্রশ্নজিজ্ঞাসা। পৃথিবীর আদিম রং কি ? লাল ? মনে হয় লাল।  কোনো মনে হয় ? এটাও একটা প্রশ্ন। শক্তির, স্থিরতার, ভালোবাসার, প্রেমের রং লাল। নিরন্তর সৃষ্টির জন্য আজও প্রেমের দরকার কেন হয় ? সেই কি তবে মুহূর্ত - প্রেম ?  পৃথিবীতে বই পড়া খুব দরকার।  ভালো গান শোনা খুব দরকার। আর দরকার ভালো করে জীবন- বাঁচা।  পুরো একটা জীবন...গোটা একটা জীবন। অনেক  ঘটনা, অনেক মুহূর্ত কথা আত্মজীবনীর পৃষ্ঠাকে সমৃদ্ধ করে। গোটা একটা জীবন বাঁচা ...ভালো  সাহিত্য মানে তো গোটা জীবন। 

০৪.০২.২০১৩

জীবনটা কি অঙ্কের মত নাকি অঙ্কগুলোই আসলে জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে মিলিয়ে দেখতে হয় ? অক্ষরভেদে , রাশিভেদে প্রতিটি অঙ্কের মধ্যেকার ফাঁকগুলো ঘিরে তৈরী হয়ে যায় এক একটা জীবনবীক্ষা। Natural numbers- 1,2,3,4,5 প্রতিটির মধ্যে তো কোনো gap নেই। Whole numbers এর মধ্যেও তো নেই কোনো gap .Even numbers - 2,4,6,8,10-পার্থক্য আছে ... আছেই তো। এক- একটা ধাপ  এক একটা gap , এই এক একটা gap এই আছে একটা জটিল অঙ্ক মেলানোর খেলা। এই দুই- ধাপ আর তিন- ধাপ, চার- ধাপ এইভাবে  সংখ্যাও তো এগিয়ে যায়। মাঝখানে কেন এই সংখ্যার জীবন থাকে ? নাকি জীবনের এই gap গুলোই এক - একটা জটিল সংখ্যা। 3, 5, 7 এই সংখ্যাগুলি কেন ব্রাত্য ? কোনো কাজে লাগে না তাই তো ? কাজে লাগে না নাকি কোনো কোনো সময় তাকে কাজে লাগানোই হয় না ? জীবনবৃত্তান্ত তো অনেকটা যদি পেরোনো জলের মতো বয়ে চলে। ভালোবাসারও হয়তো gap নেয়। Stop-Gap পরে যায় মনে হয় ! 

০৫.০২.২০১৩

এক থাকাটা কি একটা অভ্যাসের মতো ? নাকি একটা অভ্যাস তৈরী হয়ে যাওয়ার মতো  ?  অভ্যাসের কতটা গভীরে গেলে মানুষ অভ্যাস তৈরির অনুভূতিকে উপলব্ধি করতে পারে ? গভীরে, আরও কত গভীরে, অতলান্ত ঘুমের মধ্যে মধ্যে তলিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মনে হয় ? পুরোনো কথা মাঝে মাঝে খুব মনে হয়। তখন জীবনের নিস্তরঙ্গ একটা শান্তি ছিল। বহুব্রীহি তৎকথা চর্চিত জীবন ছিল।  এখনও   শান্তি আছে। শ্মশানের শান্তি। জীবন ছারখার  হয়ে গেছে - একথা বলা বড়ো বাড়াবাড়ি , তবে জীবন সমান্তরাল থেকে অন্য্ রকম metaphor খুঁজে নিয়েছে সেটা সত্যি। এই দ্যাখো , english এ ' kh' i mean khuje লিখতে যাচ্ছি। আচ্ছা, আমরা কি সব কাজ সচেতন অবস্থায় করি ? অচেতন অবস্থাতে কি কিছুই করি না ? নাকি অবচেতনের কোনো চেতনাহীনতা আমাদের দিয়ে কোনো কাজ করিয়ে নেয়। তদ্গত প্রাণ, উচাটন গান - কি জানি কোনো শ্লোক হবে হয়ত ! বই পড়া , গান শোনা এসবের মাঝেই হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। কি হবে দুনিয়াদারির খবর রেখে ? দুনিয়াদারি থাক নিজের মতো। আর দুনিয়াদারির বাইরের মানুষেরা খোলা হাওয়া পাক। 


০৬.০২.২০১৩

মনে মনে তো অনেক কথা বলা যায়। অনেক কথা তারাদের সাথে হয় , অনেক কথা  আকাশের সাথে হয়। বিরাট এই মহাশূন্য , এই মহা নিসর্গের, এই মহা নির্ভারের  মাঝখান থেকে নিজের জীবনের অস্তিত্ত্ব অনুভূত হওয়ার ব্যথা ঠিক জেগে থাকে। সহস্র আলোকবর্ষ আর অনন্ত জীবন, অনন্ত - জীবনের পারে কি ? কোথায় থামে এই রথযাত্রা ? অবিরাম জীবনের চলন, এক একটা ভাসমান জলযানের গতিপথ জুড়েই কি এক একটা জীবস্তুতি  তৈরী হয় ? হীনযান। মহান জীবনের মাঝখান থেকে এক একটা নির্ভার  হাহাকার তৈরী হতে থাকে। জীবন অনেক কিছু  লেখায় জানি। নির্ভার কখনও কখনও দুর্বিনীত করে তোলে। নিজস্ব কথনেরও এক-একটা বৈশিষ্ট্য থাকে। থাকে এক-একটা চলনশক্তি। সকালবেলা  উঠে জানালার পর্দাগুলো সরালেই তো রোদ  লাফিয়ে আসে চোখের উপর। মনের জানালা সরানোরও দরকার পরে কখনও কখনও। জীবন চলে যায় মনের জানালা সরাতে সরাতে। নির্ভার জীবন আমাদের, নির্ভয় জীবন আমাদের। নির্ভরশীল। জীবন যা দিয়ে যাবে, তাই নিয়েই তো বাঁচতে হবে। জীবন যা নিয়ে  বয়ে  যাবে, তাই নিয়েই তো চলতে হবে। জীবন-আগত - হয়ে যাবে তাকেই তো বহন করে চলতে হবে জীবৎকাল। 


০৭.০২.২০১৩

তদ্গত ... অর্থাৎ কিনা তার মধ্যে অবগত হয়ে যা লাভ করা যায়। তন্নিষ্ঠ, তন্নিঘ্ন, তমোঘ্ন  আজীবন  জিজিবিষা- খুব শক্ত শক্ত শব্দ বন্ধ। আজীবন কাল নির্ঝরিত হয়ে এসেছে, অর্থাৎ জীবনকাল থাকাকালীন নির্ভারিত হয়ে এসেছে। কথামৃত- এর একটা কথা সত্যি - লক্ষ্য সবসময় স্থির ও  মহৎ হওয়া উচিত। মহতী লক্ষ্যে পৌঁছনোর ধারা আমাদের বিবরণীর মতো ছুটতে ছুটতে অন্য্ গোলার্ধে যেতে থাকে। আসলে শর্তে থাকে। নিজেকেই কখনও কখনও কাঠগড়াতে নিয়ে যেতে মন চায়। To the point answer, to the point topic - কোথায় কোথায় যেন খেই হারিয়ে ফেলে। চারিদিকে ছড়িয়ে থাকা আলো আমাদের একদিক দিয়ে- একটু একটু করে- সরাতে শুরু করে। তদ্গত -প্রস্থান।  নতুন ভোরটা যখন শুরু হয় তখন আমাদের না- থাকা  কোথাও যেন চিরন্তন হয়ে যায় নাকি ? - আদর আদর সকাল একটা। -কথাটার নিহিতার্থ, গূঢ়ার্থ , ভঙ্গার্থ সবই সমপ্রযোজক। অপর্যাপ্ত হতাশা, তদবিল উদ্ধৃত্ত্ব - বাণী।  অনাশ্চর্য মুহূর্ত , তদ্গত সবাই। আশ্চর্যম ! কি আশ্চর্যই ! তদ্গত কিন্তু আবিল নয়। আব্বিধ। আবদ্ধ থাকি। আবিধ। মুহূর্তকাল উপস্থিত। না হয়ে যায় না। ছেদনকাল। সময় বয়ে যাচ্ছে, কাল বয়ে যাচ্ছে। নীল আকাশ, নীল বাতাস সবই কি সত্য ?   

(চলবে)  

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কাকে বলে স্ট্রিম অফ কনসাসনেস বা মগ্নচৈতন্য ? -পর্ব ১ / What is Stream of Consciousness? Part -1

কাকে বলে স্ট্রিম অফ কনসাসনেস ? সাহিত্য ধারায় এটি এক রীতি, বলতে গেলে লেখনীর এক ধরণ। সাহিত্যের আলোচনায়  কিংবা সমালোচনায় 'স্ট্রিম অফ কনসাসনেস'- ‘Stream of Consciousness’  বা মগ্নচৈতন্য শুধুমাত্র এক শব্দ নয়, এ এক অনন্য, এক স্বতন্ত্র জঁর  ।  মগ্নচৈতন্যের   স্রোত সাহিত্যসৃষ্টির এক অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ন ধারা,  যা কিনা  বিংশ শতাব্দীর কিছু বিখ্যাত লেখক   নিযুক্ত এক স্বতন্ত্র লেখন রীতি। নিজেদের লেখনীতে কিছু ঘটনা পরম্পরাকে  বর্ণনা করতে ব্যবহার করেছিলেন তারা ।  কিন্তু '  মগ্নচৈতন্য '  কী?  কেনই বা  এটি একটি 'ধারা' বা ' জঁর' ?  কিছু  পরিচিতি দিলাম বটে শুরুতে কয়েকটি শব্দকে আশ্রয় করে, তবে  বিস্তারিত আলোচনা  এগোবে আস্তে আস্তে।  এই আপাত সাধারণ এবং একইসঙ্গে ব্যাপকভাবে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা যুক্ত , সাহিত্যিক টার্মটির ধারণা  পরিষ্কার করতে সহায়তা করতে পারে হয়ত এই  আলোচনা ।   Image Courtesy: Steve Jhonson:pixels.com/free image প্রকৃতপক্ষে, ' মগ্নচৈতন্য  '   সাহিত্যের  জঁর  হিসাবে একেবারেই শুরু করেনি    তার  জীবন !  তবে ?   অবাক করা তথ্য এই  যে - সম্ভবতঃ এটি ছিল   এ

নিজের সঙ্গে একা : এমিলি ডিকিনসন / Emily Dickinson : Women Liking Their Own Company

নিজের সঙ্গে থাকতে  চাওয়া কি একান্তই অপরাধ? সব সময় কি  লোকজন সংসর্গে থাকতেই হবে ?  কোনোভাবেই থাকা যায় না কি একা ? একদম একা, নিজের সঙ্গে একা ? "… আমি আমার বাবার জমি ডিঙিয়ে  কোনও বাড়ি বা শহরে যেতে পারি না," এমিলি ডিকিনসন লিখছেন তাঁর চিঠিতে, আর এই চিঠি লেখা হয়েছে লেখক, অবলিশনিস্ট  ও সৈনিক  কর্নেল থমাস ওয়েন্টওয়ার্থ  হিগিনসনকে।  একটি চিঠির  জবাবে তাঁকে এরকমটা লিখেছিলেন এমিলি।  তাঁকে হিগিনসন তিনবার বোস্টনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য, বিভিন্ন সাহিত্য বক্তৃতাগুলিতে অংশগ্রহণ করা এবং  অন্যান্য কবিদের সাথে সাহিত্যের আলোচনার জন্য সাক্ষাৎ। হিগিনসনের সঙ্গে এমিলি যোগাযোগ রাখতেন নিয়মিতই, তিনি ছিলেন বহির্জগতের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম, যার সাথে তিনি তাঁর কবিতাও ভাগ করে নিয়েছিলেন। কিন্তু তবুও তিনি তাঁর আমন্ত্রণগুলি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, এমনকি অন্য সমসাময়িক কবিদের সাথে দেখাও করতে চাননি। এমিলি ডিকিনসন Image Courtesy : wikipedia.org  সমস্ত মহিলারা নাকি  বিপজ্জনক! আমরা  যদি  বেশিরভাগ ট্রাডিশনাল টেক্সটগুলিতে একটু চোখ বোলাই তাহলেই  একথার সত্যতা যাচাই করা হয়ে যায়। বিশেষত যদি অনুসরণ করি পুরুষদের

আমি হয়তো আবার পাগল হয়ে যাবো- ভার্জিনিয়া উলফের আত্মহত্যা-একটি ট্রাজেডি: The Tragic Tale Of Virginia Wolf's Suicide

  সব আত্মহত্যাই কি আসলে একটা পরিকল্পিত খুন, নাকি স্ব-ইচ্ছায় পালিয়ে যাওয়া? না ফুরোনো স্বপ্ন নিয়ে চলে যেতে হয় না ফেরার দেশে, কিন্তু ভার্জিনিয়া উলফা কেন আত্মহত্যা করে বসলেন? কোন আলো মাখানো জীবনের স্বপ্ন পূরণ করতে চেয়েছিলেন তিনি !     বসন্তের একটা দিন, হালকা শীত যেন লুকোচুরি খেলছে, যাই-যাই শীত আর গরমে কাবু হবার দিনগুলির মাঝে হালকা বাতাসের শিরশিরানি অনুভব করা যায়।  সকাল বেলার রোদ্দুর ছুঁয়ে যাচ্ছে চতুর্দিক। সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত,  ছেলে বুড়ো সবাই বেরিয়েছে প্রাতঃভ্রমনে,  কেউ বা ব্যস্ত সংসারের খুঁটিনাটি দেখভালে, আবার কারো রয়েছে কাজে যাবার তারা। কিন্তু একজনের কাছে যেন এই পুরো পৃথিবীর আর কিছুই ভালো লাগছে না, সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেছে তার,  লেখা হয়ে গেছে একটা নোট। ওসে নদীর দিকে ধীর পায়ে হাঁটছেন তিনি, কোটের পকেটে ভর্তি করেছেন প্রচুর পাথর, এই পথটা বোধহয় একাই  চলতে হয়, না, কেউ নেই সঙ্গে, কেউ নয়। এই পথ দিয়ে শুধু গন্তব্যে চলেছেন তিনি, যে গন্তব্য থেকে আর ফেরা হবে না, কোনোদিনও নয়, কখনও নয়, কারো কাছেই নয়, মনস্থির করে ফেলেছেন তিনি। কেন করলেন তিনি এটা, কেন নিতে হল এমন সিদ্ধান্ত! ভার্জিনিয়া